আম্বানিদের ‘অ্যান্টিলিয়া’য় ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি! মুকেশ-অনন্তের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আলেকজান্ডার স্টাব

২০২৬-এর মহারণের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নজিরবিহীন ডামাডোল তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং আরও ৬০ লক্ষ নাম ‘বিবেচনাধীন’ বা হোল্ডে থাকা নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝেই আজ, রবিবার রাতে কলকাতায় পা রাখছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা আগামী দু’দিন ম্যারাথন বৈঠক করবেন বলে জানা গিয়েছে।
কেন এই তোলপাড়? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সংশোধিত ভোটার তালিকায় দেখা গিয়েছে, এক ধাক্কায় কয়েক লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ধর্মতলায় ধরনায় বসেছেন। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, ‘SIR’ (Standard Inspection Report) পদ্ধতির মাধ্যমে তালিকায় স্বচ্ছতা আনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনো ভুয়া ভোটার যেন তালিকায় না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই স্ক্রুটিনি।
কমিশনের ঠাসা কর্মসূচি: আজ রাতে পৌঁছানোর পর সোমবার সকাল থেকেই রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন কমিশনের আধিকারিকরা। প্রতিটি দলের অভাব-অভিযোগ শোনার পর জেলা শাসক (DM), পুলিশ কমিশনার (CP) এবং পুলিশ সুপারদের (SP) সঙ্গে ভোট প্রস্তুতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে। মঙ্গলবার মুখ্য সচিব এবং ডিজি-র মতো শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠক করবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
বিচারবিভাগীয় নজরদারি: ভোটার তালিকায় নাম থাকা না-থাকা নিয়ে বিতর্কের জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে বর্তমানে ৫০০-র বেশি জুডিশিয়াল অফিসার এই ‘বিবেচনাধীন’ থাকা নামগুলি যাচাই করার কাজ করছেন। খুব শীঘ্রই আরও ২০০ জন আধিকারিক এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন বলে খবর। কমিশনের এই সফর এবং ভোটার তালিকা জট— দুই মিলিয়েই এখন বাংলার রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।