২.৫ লক্ষের লোভে বন্ধুকে কুপিয়ে খুন! সেই টাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে দামী উপহার দিয়ে শ্রীঘরে স্বামী

বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে ছিল খুনি সত্তা। মাত্র আড়াই লক্ষ টাকার লোভে নিজের পরম বন্ধুকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের চিক্কামাগালুরু জেলার বিরুরে। পুলিশ অভিযুক্ত যুবক শফিকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে এক হাড়হিম করা তথ্য— বন্ধুকে খুন করে হাতিয়ে নেওয়া টাকায় নিজের দ্বিতীয় স্ত্রীকে দামী উপহার ও নগদ টাকা দিয়ে তুষ্ট করতে চেয়েছিল ওই যুবক।

ঘটনার নেপথ্যে সোনার নিলামের টোপ: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ আগস্ট এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। অভিযুক্ত শফি তার বন্ধু পুত্তারাজুকে একটি গোল্ড ফিনান্স কোম্পানির সোনা নিলামের টোপ দেয়। সে পুত্তারাজুকে জানায়, কম দামে সোনা কেনার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। সেই ফাঁদে পা দিয়ে পুত্তারাজু বাড়ি থেকে প্রায় ২.৫ লক্ষ টাকা নিয়ে সকাল ১১টা নাগাদ বের হন। শফি তাকে হোন্নাভালি এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে সুযোগ বুঝে একটি ধারালো দা দিয়ে পুত্তারাজুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পুত্তারাজুর।

তদন্ত ও গ্রেফতারি: পরদিন সকালে এক দুধ বিক্রেতা জঙ্গলের ধারে পুত্তারাজুর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করে। কল ডিটেইলস এবং স্থানীয় সোর্স মারফত পুলিশ জানতে পারে, শেষবার তাকে শফির সঙ্গেই দেখা গিয়েছিল। এরপরই পুলিশ শফিকে আটক করে জেরা শুরু করলে সে ভেঙে পড়ে এবং নিজের অপরাধ কবুল করে।

টাকা নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তুষ্ট করার চেষ্টা: তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, শফির দ্বিতীয় স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে এবং তার মন জয় করতেই টাকার প্রয়োজন ছিল শফির। বন্ধুকে খুন করে লুঠ করা ২.৫ লক্ষ টাকার মধ্যে ৬০ হাজার টাকা সে সরাসরি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে দেয়। শুধু তাই নয়, অবশিষ্ট টাকা দিয়ে স্ত্রীকে একটি দামী নতুন টেলিভিশনও কিনে দেয় সে। টাকার লোভে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে এভাবে বিসর্জন দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধৃত শফির বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করছে কর্ণাটক পুলিশ।