রাষ্ট্রপতির সফরে চরম বিশৃঙ্খলা! মমতার সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করল অমিত শাহের মন্ত্রক

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাত তৈরি হলো কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে। রাষ্ট্রপতির সফরে নিরাপত্তা ও প্রোটোকল লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছ থেকে জরুরি রিপোর্ট তলব করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আগামী রবিবার বিকেল ৫টার মধ্যে রাজ্যের মুখ্য সচিবকে এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন।

ঘটনার সূত্রপাত ও সভাস্থল বিতর্ক: শিলিগুড়িতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার উত্তরবঙ্গে পৌঁছানোর কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। অভিযোগ উঠেছে, বিধাননগরে পূর্বনির্ধারিত সভাস্থলটি চারবার পরিবর্তন করা হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে সভার অনুমতি দেয় রাজ্য প্রশাসন। শনিবার সকালে রাষ্ট্রপতি যখন সভাস্থলে পৌঁছান, সেখানে মানুষের ভিড় কম দেখে তিনি কার্যত বিস্ময় প্রকাশ করেন।

নিজের ভাষণে রাষ্ট্রপতি ক্ষোভের সুরে বলেন, “আমি দেখছি অনেক সাঁওতালি মানুষ বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এত চেয়ার ফাঁকা কেন? মনে হচ্ছে কেউ তাঁদের এখানে আসতে বাধা দিচ্ছে। কারা সাঁওতালদের একজোট হতে দিতে চায় না?” অনুষ্ঠান শেষে তিনি নিজে বিধাননগরে গিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বলেন, “এখানে তো পর্যাপ্ত জায়গা ছিল, তবে কেন রাজ্য সরকার এখানে সভা করতে দিল না?”

প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ: সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু বাগডোগরা বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। কোনো মন্ত্রীর অনুপস্থিতিকে ‘প্রোটোকল লঙ্ঘন’ হিসেবে দেখছে কেন্দ্র। রাষ্ট্রপতি নিজেও দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। তিনি বোধহয় রাগ করেছেন, তাই নিজে আসেননি, কোনো মন্ত্রীকেও পাঠাননি।”

মোদী বনাম মমতা: তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা এই ঘটনায় সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, “এটি লজ্জাজনক। জনজাতি সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মান মেনে নেওয়া যায় না। তৃণমূল সরকার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে।”

পাল্টা তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কলকাতার ধরনা মঞ্চ থেকে তিনি সাফ জানান, কোনো প্রোটোকল লঙ্ঘন হয়নি। শিলিগুড়ির মেয়র এবং জেলাশাসক নিয়ম মেনেই উপস্থিত ছিলেন। মমতার অভিযোগ, “নির্বাচনের আগে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে কাজে লাগিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে।” তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নথিপত্র প্রকাশ করে দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির সফরসূচিতে তাঁর থাকার কথা ছিল না।