“যুদ্ধ এবার দুবাইয়ের দোরগোড়ায়!”-রানওয়েতে আছড়ে পড়ল ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ!

মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবার স্পর্শ করল বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে। শনিবার সকালে ইরানের একটি মিসাইল সরাসরি বিমানবন্দর চত্বরে আছড়ে পড়ার খবর আসতেই হুলুস্থুল পড়ে যায়। নিরাপত্তার খাতিরে তড়িঘড়ি বিমানবন্দরটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এর ফলে কয়েক হাজার ভারতীয় নাগরিক দুবাইয়ে আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আকাশেই ধ্বংস মিসাইল, রানওয়েতে ধ্বংসাবশেষ
সূত্রের খবর, এদিন সকালে ইরান থেকে দুবাই লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। দুবাইয়ের অত্যাধুনিক ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ সেটি আকাশেই রুখে দিতে সক্ষম হলেও, ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ এসে পড়ে বিমানবন্দর চত্বরে। বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াতে সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত উড্ডয়ন ও অবতরণ স্থগিত করা হয়। যদিও সাময়িক ধাক্কা কাটিয়ে বর্তমানে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে আংশিক পরিষেবা চালুর চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
আটকে হাজারো ভারতীয়: শুভশ্রী ফিরলেও দুশ্চিন্তায় রাজ
এই যুদ্ধের আবহে গত শনিবার থেকেই দুবাইয়ে আটকে ছিলেন টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর পুত্র ইউভান। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর শুক্রবার বিকেলে তাঁরা কলকাতা ফিরতে পারলেও, শনিবারের নতুন করে ঘটা এই হামলায় ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শুধু শুভশ্রী নন, ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু সহ অসংখ্য ভারতীয় পর্যটক ও কর্মী বর্তমানে সেখানে আটকা পড়ে আছেন। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটের নতুন সময়সূচী ঘোষণা করা সম্ভব নয়।
প্রশাসনের কড়া বার্তা
দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনেই বর্তমানে কাজ চলছে। যাত্রীদের অনুরোধ করা হয়েছে:
-
বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে অবশ্যই অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপে ফ্লাইটের স্ট্যাটাস চেক করুন।
-
অকারণে আতঙ্কিত না হয়ে দূতাবাসের গাইডলাইন মেনে চলুন।
-
বিশেষ প্রয়োজনে হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন।
ছড়াচ্ছে যুদ্ধের আগুন
তেহরানে মার্কিন হামলার পালটা হিসেবে ইরান এবার মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য বন্ধুপ্রতীম দেশ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোকে নিশানা করতে শুরু করেছে বলে দাবি প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের। দুবাইয়ের মতো নিরাপদ ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে এই হামলা বিশ্ব অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পের জন্য এক অশনি সংকেত বলেই মনে করা হচ্ছে।