ইরানের দাদাগিরি শেষ? ‘মার খেয়ে ক্ষমা চাইছে এখন তেহরান’- বললেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কি তবে যবনিকা পতন হতে চলেছে? ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ‘ক্ষমা’ প্রার্থনা এবং ‘আর হামলা নয়’—এই ঘোষণার পরই আসরে নামলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই ইরানকে ‘পরাজিত শক্তি’ বলে দাগিয়ে দিলেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকা ও ইজরায়েলের লাগাতার সামরিক চাপের মুখে কার্যত নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেছে তেহরান।
‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্পের তোপ
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘Truth Social’-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “ইরান প্রচণ্ড মার খাচ্ছে। তাই প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে আর গুলি চালাবে না।” এখানেই থামেননি তিনি। ট্রাম্পের দাবি, কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ইরান এভাবে হার স্বীকার করল। একসময়ে মধ্যপ্রাচ্যে দাপিয়ে বেড়ানো দেশটির বর্তমান পরিচয় এখন ‘পরাজিত দেশ’, এমনটাই কটাক্ষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কেন পিছু হঠলেন পেজেশকিয়ান?
শনিবার সকালে এক টেলিভিশন ভাষণে নাটকীয় মোড় নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট জানান:
-
প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আর কোনও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে না ইরান।
-
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
-
ইরান কোনও দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানতে চায় না।
নেপথ্যে কি গভীর কূটনৈতিক চাল?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই ‘নম্র’ হওয়ার পেছনে রয়েছে বড় কোনো স্ট্র্যাটেজি। সরাসরি আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে হামলা চালানো তেহরানের পক্ষে অসম্ভব। তাই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোই ছিল তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। কিন্তু ইজরায়েলি আকাশসীমা ভেদ করতে না পারা এবং মার্কিন প্রযুক্তির পালটা মারে ইরান কার্যত কোণঠাসা। রাষ্ট্রসঙ্ঘে ইরানের রাষ্ট্রদূতের দাবি অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই ১০০০-এর বেশি ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশ্ব অর্থনীতিতে দুশ্চিন্তার মেঘ
এই সংঘাতের জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্ব বাণিজ্য। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
শনিবার ভোরেও ইজরায়েল লক্ষ্য করে ছোঁড়া ইরানি মিসাইলগুলো মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয় ইজরায়েলি ডিফেন্স সিস্টেম। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি— ইরান যদি ফের উস্কানি দেয়, তবে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এখন প্রশ্ন একটাই, ইরানের এই ‘পিছু হঠা’ কি সত্যিই শান্তির ইঙ্গিত, নাকি ঝড়ের আগের স্তব্ধতা? নজর বিশ্ব রাজনীতির অলিন্দে।