“কারও দয়ায় নয়!”-রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে আমেরিকাকে সপাটে জবাব ভারতের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজতেই বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে আগুন। এরই মধ্যে রাশিয়ার থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার একটি বয়ান ঘিরে দানা বেঁধেছিল তীব্র বিতর্ক। তবে এবার সেই জল্পনায় জল ঢেলে কড়া অবস্থান নিল নয়া দিল্লি। সরকারি সূত্রে সাফ জানানো হয়েছে— রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতের কোনও বিশেষ দেশের ‘অনুমতি’ বা ‘ছাড়’-এর প্রয়োজন নেই।
কারও ইশারায় চলবে না ভারত
উচ্চপদস্থ এক সরকারি আধিকারিকের দাবি অনুযায়ী, ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনে কার থেকে তেল কিনবে, তা সম্পূর্ণ নিজস্ব সিদ্ধান্ত। ওই আধিকারিক স্পষ্ট জানান, “ভারত কখনই রাশিয়ার তেল কেনার জন্য কোনও দেশের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল ছিল না, আজও নেই। ভারত যেখানে সুবিধা পাবে, সেখান থেকেই অপরিশোধিত তেল কিনবে।”
চাপ উপেক্ষা করেই বেড়েছে আমদানি
তথ্য বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন আমেরিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) প্রচ্ছন্ন আপত্তি এবং চাপ সত্ত্বেও ভারত পিছু হঠেনি। বরং রাশিয়ার থেকে তেল আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির মারপ্যাঁচে না জড়িয়ে নিজেদের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে মোদী সরকার।
কেন তৈরি হলো বিতর্ক?
ইরান যুদ্ধের উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার উপক্রম হতেই বিশ্ববাজারে তেলের আকাল দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেল কেনার জন্য ভারতকে ৩০ দিনের একটি ‘অস্থায়ী ছাড়’ দেওয়ার কথা ঘোষণা করে ওয়াশিংটন। আর এই ‘ছাড়’ শব্দটি নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। প্রশ্ন ওঠে, সার্বভৌম দেশ হিসেবে ভারত কি তবে আমেরিকার সবুজ সংকেত ছাড়া কিছুই করতে পারছে না? সেই বিতর্কের অবসান ঘটাতেই এবার ভারতের তরফ থেকে এই কড়া প্রতিক্রিয়া এল।
তেল ভাণ্ডারে কতটা নিশ্চিন্ত ভারত?
আমদানি নিয়ে বিতর্কের মাঝেই আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। জানানো হয়েছে:
-
ভারতের কাছে বর্তমানে ২৫০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে।
-
এই মজুত ভাণ্ডার দিয়ে দেশের আগামী ৭ থেকে ৮ সপ্তাহের চাহিদা অনায়াসেই মেটানো সম্ভব।
-
ভারত বর্তমানে প্রায় ৪০টি দেশ থেকে তেল আমদানি করে, ফলে কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নয়া দিল্লি নির্ভরশীল নয়।
পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই অবস্থান বিশ্বমঞ্চে এক শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিল। নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় ভারত যে কোনও ‘দাদাগিরি’ মেনে নেবে না, তা আজ স্পষ্ট।