র‍্যাপার থেকে প্রধানমন্ত্রী? নেপালে ‘জেন-জি’ ঝড়ে তছনছ পুরোনো রাজনীতি, কত কোটি টাকার মালিক বলেন শাহ?

হিমালয় কন্যা নেপালের রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের প্রবল হাওয়া। প্রথাগত রাজনীতির ব্যাকরণ বদলে দিয়ে এক অভাবনীয় উত্থান ঘটতে চলেছে জেন-জি আইকন বলেন শাহের। নেপালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রাক্কালে দেশজুড়ে এখন একটাই নাম—বলেন্দ্র শাহ। কাঠমান্ডুর প্রাক্তন এই মেয়রের হাত ধরেই নেপালে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গণনার ঝড়ে ধরাশায়ী বিরোধীরা নির্বাচনী ফলাফলের প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, বলেন শাহ অন্তত ৩০ থেকে ৩২টি আসনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। যেখানে দেশটির অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলি মাত্র ৫ থেকে ৬টি আসনে লড়াই করছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বলেন শাহের নাম ঘোষণা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তরুণ প্রজন্মের এই বিপুল সমর্থন নেপালের ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বলেন শাহ বলেন্দ্র শাহ বা ‘বলেন’ শাহ কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একাধারে একজন সফল স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং নেপালের অত্যন্ত জনপ্রিয় র‍্যাপার। ১৯৯০ সালে কাঠমান্ডুতে জন্মগ্রহণ করা বলেন শাহ উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতে এসেছিলেন। কর্ণাটকের বিশ্বরায়্য টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (VTU) থেকে তিনি স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমটেক ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনীতিতে আসার আগেই তিনি তাঁর শিল্পসত্তা এবং পেশাদারিত্বের কারণে নেপালি তরুণদের হার্টথ্রব হয়ে উঠেছিলেন।

সম্পত্তি ও আয়ের উৎস বলেন শাহের মোট সম্পত্তির পরিমাণ বর্তমানে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ মিলিয়ন নেপালি টাকা। একজন মেয়র হিসেবে তাঁর মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৪৬,০০০ টাকা, কিন্তু তাঁর আয়ের প্রধান উৎস হল তাঁর নিজস্ব ব্যবসা এবং সঙ্গীত জগত। তিনি ‘বলেন কনসাল্টিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং পদ্মা গ্রুপ অফ কোম্পানিজের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া র‍্যাপ সংগীত, স্টেজ শো এবং ইউটিউব-ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকেও তাঁর মোটা অঙ্কের আয় হয়। তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৩ লক্ষ নেপালি টাকারও বেশি।

জনপ্রিয়তার শিখরে ২০২৩ সালে টাইম ম্যাগাজিনের ‘১০০ উদীয়মান নেতা’ তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন তিনি। মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল শাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন লড়াই তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে ‘হিরো’ করে তুলেছে। আভিজাত্যের বদলে সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত বলেন শাহ এখন নেপালের আগামীর স্বপ্নদ্রষ্টা।