মজুত আছে মাত্র ২১ দিনের রসদ? তেল নয়, ভারতের আসল বিপদ এখন LPG!

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র থেকে ধেয়ে আসছে অশনি সংকেত। বিশ্ববাণিজ্যের ধমনী বলে পরিচিত হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) এখন কার্যত অবরুদ্ধ। এই পথ দিয়েই বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস যাতায়াত করে। ইরানি হুঙ্কার আর জাহাজে হামলার জেরে এই রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। তবে আসল বিপদ কি শুধুই খনিজ তেল? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের চেয়েও বড় সংকট ঘনাচ্ছে রান্নার গ্যাস বা LPG নিয়ে।

ভারতের তেল আমদানিতে বড় ধাক্কা
বিবিসি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। এর মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল আসে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। মূলত ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত এবং আমিরশাহি থেকে আসা এই তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হলে:

প্রতি ব্যারেলে ১০ ডলার দাম বাড়লে ভারতের মুদ্রাস্ফীতি ০.২৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে।

সরকার কর কমালে বাড়বে দেশের রাজস্ব ঘাটতি।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি: রান্নার গ্যাস (LPG/LNG)
মেরিটাইম ইন্টালিজেন্স সংস্থা Kpler-এর বিশ্লেষক সুমিত রিতোলিয়ার মতে, ক্রুড অয়েলের চেয়েও বেশি চিন্তার বিষয় হল LPG এবং LNG। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক দেশ।

LPG নির্ভরতা: ভারত তার চাহিদার প্রায় ৮০-৮৫% গ্যাস আমদানি করে, যার পুরোটাই আসে কাতার, সৌদি ও কুয়েত থেকে। এই সব জাহাজই হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে।

LNG সংকট: গত বছর আমদানিকৃত ২৫ মিলিয়ন টন এলএনজি-র মধ্যে ১৪ মিলিয়ন টনই এসেছে এই পথ দিয়ে। যা সার কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহণ খাতের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ভয়ঙ্কর তথ্য: ভারতে তেলের মজুত দিয়ে ৩০-৩৫ দিন চললেও, রান্নার গ্যাসের (LPG) মজুত অত্যন্ত সীমিত। সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বর্তমান মজুত দিয়ে মাত্র ২ থেকে ৩ সপ্তাহ চাহিদা মেটানো সম্ভব।

বিকল্প পথ কি খোলা আছে?
সংকট মোকাবিলায় ভারত রাশিয়া, আমেরিকা বা পশ্চিম আফ্রিকার দিকে ঝুঁকতে পারে। কিন্তু সেখানেও রয়েছে নতুন সমস্যা:

সময়: উপসাগরীয় দেশ থেকে তেল আসতে লাগে মাত্র ৫-৭ দিন, সেখানে বিকল্প উৎস থেকে আসতে সময় লাগবে ২৫-৪৫ দিন।

খরচ: দীর্ঘ সমুদ্রপথের কারণে পরিবহণ খরচ এবং বিমার প্রিমিয়াম কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

ভবিষ্যৎ কী?
বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময়ের জন্য পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে নিরাপত্তা কড়াকড়ি বা জাহাজের পথ পরিবর্তনের কারণে জ্বালানির দাম বাড়তে বাধ্য। যদি এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তেল নয়, বরং বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গৃহিণীদের হেঁশেলের গ্যাস সরবরাহ সবার আগে চাপের মুখে পড়বে।