খামেনেই হত্যায় ইজরায়েল ব্যবহার করে ব্লু স্প্যারো,জেনেনিন কী এই ক্ষেপণাস্ত্র?

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারের পাতায় দিনটি চিরস্থায়ী হয়ে গেল মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে। এক রক্তক্ষয়ী ভোরে কেঁপে উঠল তেহরানের আকাশ। ইজরায়েলি বিমানবাহিনীর সুপরিকল্পিত অভিযানে প্রাণ হারালেন ইরানের দীর্ঘ সময়ের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। ইজরায়েল এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’, আর মার্কিন নথিতে যা ঠাঁই পেয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে।
কিন্তু এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডে ইজরায়েল ঠিক কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করল, যা ইরানের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করতে সক্ষম হল? গোয়েন্দা সূত্রে উঠে আসছে এক বিধ্বংসী নাম— ‘ব্লু স্প্যারো’ (Blue Sparrow)।
কী এই ব্লু স্প্যারো? কেন এটি এত প্রাণঘাতী?
ইজরায়েলের প্রখ্যাত প্রতিরক্ষা সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস-এর তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রটি আসলে একটি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক মিসাইল। মূলত ইজরায়েলি অ্যারো মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের মহড়ার জন্য এটি তৈরি করা হলেও, এর উন্নত সংস্করণই এখন ইজরায়েলের প্রধান অস্ত্র।
-
ওজন ও দৈর্ঘ্য: প্রায় ১৯০০ কেজি ওজন এবং ৬.৫১ মিটার দীর্ঘ এই মিসাইলটি এক ধাপের কঠিন রকেট জ্বালানিতে চলে।
-
অজেয় নেভিগেশন: এতে রয়েছে GPS এবং INS (Inertial Navigation System)-এর যুগলবন্দী। অর্থাৎ, বাইরের সংকেত জ্যাম করে দিলেও এটি নিজের পথ নিজেই চিনে নিতে পারে।
-
আক্রমণের ভঙ্গি: এটি সাধারণ মিসাইলের মতো অনুভূমিকভাবে আসে না। যুদ্ধবিমান থেকে ছোঁড়ার পর এটি বায়ুমণ্ডলের শেষ সীমানায় পৌঁছে যায় এবং সেখান থেকে প্রায় খাড়াভাবে (Vertical) লক্ষ্যবস্তুর ওপর আছড়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞের মত: অধিকাংশ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিগন্তরেখা বরাবর আসা হামলা ঠেকাতে পারদর্শী। কিন্তু ব্লু স্প্যারো মহাকাশের কাছাকাছি গিয়ে যখন শব্দের চেয়ে বহুগুণ গতিতে ওপর থেকে নিচে নামে, তখন কোনো রাডারের পক্ষেই একে আটকানো সম্ভব হয় না।
খামেনেই-বধের সেই অভিশপ্ত ভোর
১ মার্চ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো খামেনেইর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। জানানো হয়, তেহরানের মধ্যাঞ্চলে নিজের বাসভবনের কাছেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় তার দেহ। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের ক্ষমতার ভরকেন্দ্র থাকা খামেনেইর প্রয়াণে ইরানে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার সময় আকাশ থেকে কোনো উল্কাপিণ্ড আছড়ে পড়ার মতো তীব্র গতিতে আঘাত হেনেছিল ইজরায়েলি মিসাইল।
ব্লু স্প্যারো থেকে ‘ROCKS’: প্রযুক্তির বিবর্তন
ব্লু স্প্যারোর অসামান্য সাফল্য থেকেই ইজরায়েল তৈরি করেছে ROCKS নামে এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ-প্রস্তুত ক্ষেপণাস্ত্র। এটি:
-
মাটির নিচে থাকা বাংকার ধ্বংস করতে সক্ষম।
-
৫০০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করতে পারে।
-
লক্ষ্যবস্তুর মাত্র ৩ মিটারের মধ্যে নিখুঁত আঘাত হানতে পারে।
ইজরায়েলের এই প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই কি তবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিল? খামেনেই পরবর্তী ইরান কোন পথে হাঁটবে, এখন সেটাই দেখার।