“দেশ নেহি ঝুকনে দুঙ্গা” শুধুই নির্বাচনী স্লোগান! আমেরিকার চাপে নতিস্বীকারের অভিযোগে সরব কংগ্রেস

ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতা ও বিদেশনীতি নিয়ে শুক্রবার নরেন্দ্র মোদী সরকারকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। রাশিয়ার থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে আমেরিকা ভারতকে মাত্র ৩০ দিনের যে ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছে, তাকেই হাতিয়ার করে খাড়গের প্রশ্ন— ভারতের মতো এক বিশাল সার্বভৌম রাষ্ট্র কি এখন বিদেশের ‘অনুমতি’র অপেক্ষায় বসে থাকবে? তাঁর দাবি, মোদী সরকারের আমলে ভারতের কূটনৈতিক ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন আজ খাদের কিনারে।
সার্বভৌমত্ব নিয়ে খাড়গের বড় প্রশ্ন: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে খাড়গে দাবি করেন, “ভারতকে রুশ তেল কিনতে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে—এই ভাষাটাই অপমানজনক। এটি প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমাদের সমান অংশীদার হিসেবে নয়, বরং নিষেধাজ্ঞাগ্রস্ত কোনও রাষ্ট্রের মতো দেখা হচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ, জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী বা অটল বিহারী বাজপেয়ীর মতো প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীরা যে স্বাধীন বিদেশনীতি বজায় রেখেছিলেন, মোদী সরকার তা জলাঞ্জলি দিচ্ছে।
‘অপারেশন সিঁদুর’ ও ট্রাম্পের দাবি নিয়ে আক্রমণ: খাড়গে তাঁর অভিযোগে সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার কথা টেনে আনেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প যখন প্রকাশ্যে দাবি করছেন যে তিনি সংঘাত থামিয়েছেন, তখন ভারত সরকারের নীরবতা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। খাড়গের মতে, শক্তির উৎস হিসেবে ইরান থেকে তেল কেনা প্রায় বন্ধ করার পর এখন রাশিয়ার ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটনের চাপের কাছে মাথা নত করছে দিল্লি।
জনগণকে প্রতারণার অভিযোগ: “ম্যায় দেশ নেহি ঝুকনে দুঙ্গা” (দেশকে ঝুঁকতে দেব না)—প্রধানমন্ত্রীর এই জনপ্রিয় স্লোগানকেও তীব্র কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর কথায়, বাস্তবে সরকার বাণিজ্য, শক্তি নীতি ও তথ্যের গোপনীয়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিদেশের কাছে নতি স্বীকার করছে। খাড়গের দাবি, এই ঘটনাপ্রবাহে ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। ভারতের সার্বভৌমত্ব কি তবে আমেরিকার ‘পারমিশন’-এর ওপর দাঁড়িয়ে আছে? এই প্রশ্ন তুলেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি।