ছুটি না পেয়ে চরম কাণ্ড! প্যান্ট খুলে কর্তৃপক্ষের সামনেই ক্ষতস্থান দেখালেন লোকো পাইলট!

ছুটির জন্য কতবার আবেদন করা যায়? রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও যখন ছুটি মিলল না, তখন নিজের শরীরের ক্ষতস্থান খুলে দেখিয়েই প্রতিবাদ জানালেন এক লোকো পাইলট। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। কর্তৃপক্ষের ‘অমানবিক’ আচরণের প্রতিবাদে ওই রেল কর্মীর এমন চরম পদক্ষেপ রেলের অন্দরের কর্মসংস্কৃতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

কী ঘটেছিল লখনউয়ে? রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই লোকো পাইলটের নাম রাজেশ মীনা। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পাইলসের (Hemorrhoids) সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে সম্পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছিলেন। রাজেশ ১ মার্চ কাজে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শারীরিক দুর্বলতা ও ক্ষত না শুকোনোর কারণে আরও কয়েক দিনের মেডিক্যাল লিভ বা অসুস্থতাজনিত ছুটির আবেদন করেন।

অমানবিক আচরণ ও নজিরবিহীন প্রতিবাদ: অভিযোগ, চিফ ক্রু কন্ট্রোলার রতন কুমারের কাছে বারংবার আবেদন করা সত্ত্বেও রাজেশের ছুটি মঞ্জুর করা হয়নি। এমনকি তাঁর ব্যান্ডেজ ও ওষুধের প্রেসক্রিপশন দেখেও মন গলেনি কর্তৃপক্ষের। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে রাজেশ মেজাজ হারান। তিনি চিৎকার করে বলেন, “আপনি যদি ক্ষতস্থান দেখতে চান, আমি তাও দেখাতে পারি।” এর পরেই রাগের মাথায় নিজের প্যান্ট ও অন্তর্বাস খুলে দপ্তরের মধ্যেই প্রতিবাদ জানান তিনি। পাইলটের এমন মূর্তিতে হকচকিয়ে যান উপস্থিত সকলে।

শেষমেশ মিলল সুরাহা: অল ইন্ডিয়া লোকো রানিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কানে পৌঁছায়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এবং রাজেশের শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখে শেষ পর্যন্ত তাঁর মেডিক্যাল লিভ মঞ্জুর করেন সিনিয়র ডিভিশনাল অফিসাররা। তবে একজন রেল কর্মীকে ছুটির জন্য কেন এমন চরম পথ বেছে নিতে হল, তা নিয়ে রেলের অন্দরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।