প্যারাটিচারদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ধর্মতলা! মমতার হুঙ্কার, “বিজেপির দালালি করতে এখানে আসবেন না

ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে তখন তুঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদ। মঞ্চে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একের পর এক তোপ দাগছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই স্থায়ীকরণের দাবিতে পোস্টার হাতে স্লোগান দিতে দিতে হাজির হন একদল পার্শ্বশিক্ষক। এই আকস্মিক বিক্ষোভে মেজাজ হারালেন তৃণমূলনেত্রী। মঞ্চ থেকেই সাফ জানিয়ে দিলেন, “এটা দাবি তোলার জায়গা নয়, যান মোদীকে গিয়ে দেখান!”

প্যারাটিচারদের ওপর কেন ক্ষুব্ধ মমতা? শুক্রবার বিকেলে ধরনামঞ্চের সামনে পার্শ্বশিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা হঠাৎই জমায়েত করেন। তাঁদের হাতে ছিল স্থায়ীকরণ ও বেতন বৃদ্ধির দাবি সম্বলিত পোস্টার। এতেই বিরক্তি প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, এই বিক্ষোভের পিছনে বিজেপির উস্কানি রয়েছে। মমতা বলেন, “দোহাই আপনাদের, এটা রাজনীতি করার সময় নয়। মানুষ মারা যাচ্ছে আর আপনারা বিজেপির কথায় এসব করছেন। জায়গাটা খোলা আছে মানেই যা ইচ্ছে করা যাবে না।”

পুলিশকে সরানোর নির্দেশ: বিক্ষোভকারীদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজনীতি করতে হলে অন্য জায়গায় যান। যান মোদীকে দেখান, অমিত শাহকে গিয়ে দেখান। এখানে এসআইআর (SIR) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদ চলছে।” এরপরই তিনি পুলিশকে নির্দেশ দেন বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও বসিয়ে দেওয়ার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই পুলিশ তৎপর হয়ে বিক্ষোভকারীদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়।

নির্বাচন কমিশনকে ‘নির্লজ্জ’ আক্রমণ: এদিন ধরনামঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশনকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, “নির্লজ্জ, বেহায়া বিজেপি এবং তাদের দালাল নির্বাচন কমিশন। ৫ লক্ষ জীবিত মানুষকে মৃত দেখানো হয়েছে।” রবিবার রাজ্যে আসছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। তার ঠিক দুদিন আগেই এই ধরনা থেকে মমতা বুঝিয়ে দিলেন, আসন্ন নির্বাচনে ভোটার তালিকা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে।