পাহাড়ের বুকে রেলের গর্জন! পাঞ্জাব থেকে সরাসরি চাল এল মিজোরামে, লজিস্টিক্সে বিপ্লব

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামের জন্য ২০২৬ সালের মার্চ মাস এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকল। গত ৩ মার্চ, ২০২৬ তারিখে ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (FCI)-এর প্রথম খাদ্যশস্য বোঝাই কার্গো ট্রেন সরাসরি সাইরাং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছেছে। ৪২টি ওয়াগন বিশিষ্ট এই ট্রেনটি পাঞ্জাব থেকে প্রায় ২৫,৯০০ কুইন্টাল চাল নিয়ে এসেছে। মিজোরাম সরকারের খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ মন্ত্রী বি. লালছানজোভা এবং রাজ্যসভার সাংসদ কে. ভানলেলভেনার উপস্থিতিতে এই রেকটিকে স্টেশনে স্বাগত জানানো হয়। এটি কেবল একটি ট্রেনের আগমন নয়, বরং দুর্গম পাহাড়ি রাজ্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা।
রেলপথে মিজোরামের ভোলবদল ও পর্যটন বিপ্লব: ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে ভৈরবী-সাইরাং ৫১.৩৮ কিলোমিটার রেললাইনের উদ্বোধন মিজোরামকে ভারতের মূল রেল মানচিত্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি রাজ্যের পর্যটনে। গত ছয় মাসে মিজোরামে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ‘নর্থ ইস্ট ডিসকভারি’ সার্কিটের অধীনে প্রথমবারের মতো ‘ভারত গৌরব’ ডিলাক্স এসি ট্যুরিস্ট ট্রেন সাইরাং স্টেশনে পৌঁছায়, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও নেপালের মতো ভিনদেশি পর্যটকরাও ছিলেন। এই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ইকো-ট্যুরিজম ও কালচারাল ট্যুরিজমের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মসংস্থানেও জোয়ার এনেছে।
যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে রেকর্ড সাফল্য: রেল পরিষেবা শুরু হওয়ার পর থেকে যাত্রী সংখ্যায় অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। সাইরাং-আনন্দ বিহার রাজধানী এক্সপ্রেস ১৫০ শতাংশের বেশি অকুপ্যান্সি নিয়ে চলছে। এছাড়াও কলকাতা ও গুয়াহাটির সাথে সংযোগকারী ট্রেনগুলিতেও তিল ধারণের জায়গা নেই। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সাইরাং টার্মিনাল এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাসে সিমেন্ট, সার, পাথর ও বালি বোঝাই ৩০টিরও বেশি মালবাহী ট্রেন এখানে পৌঁছেছে। এমনকি গত ডিসেম্বরে প্রথমবার ১১৯টি যাত্রীবাহী গাড়ি নিয়ে অটোমোবাইল রেক সাইরাং পৌঁছে রেলের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। স্থানীয় কৃষকদের সুবিধার্থে রেফ্রিজারেটেড পার্সেল ভ্যান চালুর পরিকল্পনাও নিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে, যা মিজোরামের অর্থনীতিক স্থিতিশীলতায় বড় ভূমিকা নেবে।