‘জ্যান্ত মানুষকে মৃত বানিয়েছে কমিশন!’ ধর্মতলায় ধরনা মঞ্চে বিস্ফোরক মমতা, পাশে সুমন-জয়

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) ইস্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার দুপুর থেকেই ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি চক্রান্ত করে লক্ষ লক্ষ বাঙালির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এদিন মঞ্চে এমন ২২টি পরিবারকে নিয়ে আসা হয়, যাদের পরিবারের সদস্যদের কমিশনের তালিকায় ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। মমতা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “যাদের মৃত বলা হয়েছে, তাঁরা আজ আমার মঞ্চে উপস্থিত। এঁরা কি ভূত? বিজেপি এবং দালালি করা কমিশনকে এর জবাব দিতে হবে।”

বামফ্রন্টের ‘ম্যারাথন’ অবস্থান ও বিমান বসুর অসুস্থতা: অন্যদিকে, একই ইস্যুতে বুধবার থেকে সিইও (CEO) দপ্তরের সামনে টানা অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছিল বামফ্রন্ট। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই আন্দোলন চলে। তবে দীর্ঘ ৫৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথমবার শারীরিক অসুস্থতার কারণে সারারাত ধরনা মঞ্চে থাকতে পারলেন না বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে রাতে বাড়ি ফিরতে হয়। তবে বৃহস্পতিবার সুস্থ হয়েই তিনি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। বামেদের দাবি, ৬০ লক্ষ ভোটার যাদের ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছে, তাদের ভাগ্য স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত স্বচ্ছ ভোট সম্ভব নয়।

সিংগুর-নন্দীগ্রামের ছায়া ধরনা মঞ্চে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা মঞ্চে এদিন উপস্থিত ছিলেন জয় গোস্বামী, কবীর সুমন ও রাজীব কুমারের মতো ব্যক্তিত্বরা। কবীর সুমনকে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে মমতা বলেন, “আপনাদের দেখলে আমার সিংগুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, অমর্ত্য সেনের মতো নোবেলজয়ী থেকে শুরু করে জাতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ সামি বা রিচা ঘোষের নামও ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই ‘সাইলেন্ট ইনভিজিবল রিগিং’ বা নিঃশব্দ কারচুপির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করার চেষ্টা চলছে। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা নিয়ে তৃণমূল ও বামেদের এই দ্বিমুখী আন্দোলনে তপ্ত তিলোত্তমা।