রণক্ষেত্র যখন আরব সাগর, তখন রক্ষাকর্তা ভারত! ডুবন্ত জাহাজ উদ্ধারে আইএনএস তরঙ্গিনী ও ইকশাকের রুদ্ধশ্বাস অভিযান

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্লান্ত সমুদ্রে এবার ‘ত্রাতা’র ভূমিকায় ভারতীয় নৌসেনা। মার্কিন টর্পেডোর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ডুবন্ত একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে বাঁচাতে দ্রুত উদ্ধারে নামল ভারত। শ্রীলঙ্কার নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযানে ভারত তার অত্যাধুনিক ‘লং রেঞ্জ মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফ্ট’ এবং দুটি শক্তিশালী নৌ-জাহাজ— আইএনএস তরঙ্গিনী (INS Tarangini)আইএনএস ইকশাক (INS Ikshak)-কে মোতায়েন করেছে। মার্কিন ও ইরানের এই সংঘাতের আবহে মানবিক খাতিরে ভারতের এই তৎপরতা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া আইএনএস তরঙ্গিনী মূলত একটি প্রশিক্ষণ জাহাজ বা ‘সেল ট্রেনিং ভেসেল’। ৫৪ মিটার লম্বা এই জাহাজটি গোয়া শিপইয়ার্ডে তৈরি। যদিও এটি ক্যাডেটদের প্রথাগত সমুদ্রবিদ্যা এবং পাল তোলা জাহাজের নেভিগেশন শেখানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে এর দীর্ঘস্থায়ী সহনশীলতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার ক্ষমতা উদ্ধারকাজে বড় অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, আইএনএস ইকশাক একটি হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল, যা কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সে তৈরি। সমুদ্রের তলার পরিস্থিতি এবং জোয়ার-ভাটার নিখুঁত তথ্য সংগ্রহে এটি অতুলনীয়। এই জাহাজের সংগৃহীত তথ্যই বর্তমান উদ্ধার অভিযানে নেভিগেশন সহজ করে তুলছে।

মার্কিন টর্পেডোর আঘাতে ইরানি জাহাজটি বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়লে ভারত সময় নষ্ট না করে এই দুই জাহাজকে ঘটনাস্থলে পাঠায়। একদিকে যখন আকাশপথে নজরদারি চালাচ্ছে ভারতের শক্তিশালী এয়ারক্রাফ্ট, অন্যদিকে সমুদ্রের বুক চিরে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে তরঙ্গিনী ও ইকশাক। এই অভিযান কেবল একটি উদ্ধারকাজ নয়, বরং উত্তাল ভূ-রাজনীতির মাঝে ভারতের নৌ-শক্তি এবং মানবিক কূটনীতির এক বড় নিদর্শন। বর্তমানে জাহাজ দুটির কর্মীরা ইরানি নাবিকদের সুরক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটিকে পুনরুদ্ধারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।