“সেই ২৬ দিনের অনশন আর সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম!” ২০ বছর পর কি ফের ‘বিরোধী নেত্রী’র মেজাজে মমতা?

সময়টা ২০০৬ বনাম ২০২৬। কুড়ি বছর আগে যে মেট্রো চ্যানেল দেখেছিল সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক অনশন, শুক্রবার দুপুরে সেই একই চত্বর সাক্ষী থাকল এক অন্যরকম প্রতিবাদের। এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ‘হয়রানি’র অভিযোগে অনির্দিষ্টকালীন ধরনায় বসলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে পা দিয়েই তাঁর আবেগঘন ঘোষণা, “আমার সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।”

এদিনের মঞ্চ ছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এক অদ্ভুত কোলাজ। মমতার পাশে হাজির ছিলেন কবীর সুমন, নচিকেতা, জয় গোস্বামী ও সুবোধ সরকারের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। মমতা যখন মাইক ধরলেন, তখন তিনি আর কেবল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নন, বরং যেন সেই পুরনো ‘লড়াকু’ বিরোধী নেত্রী। তাঁর প্রধান নিশানা ছিল নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা থেকে ৬০ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া এবং আরও ৬০ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’ থাকার প্রতিবাদে তিনি হুঙ্কার দেন, “যাদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে অথচ তাঁরা জীবিত, তাঁদের আমি মঞ্চে হাজির করব।”

মমতা সাফ জানিয়ে দেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে আমরা কাজ করি, জানি কোথায় কী হয়।” উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে তৎকালীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে এই মেট্রো চ্যানেলেই ২৬ দিনের মরণপণ অনশন করেছিলেন মমতা। ২০ বছর পর সেই একই স্থানে দাঁড়িয়ে মমতার ‘অতীত-স্মরণ’ এবং জয়-সুমনদের উপস্থিতি ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক প্রধান হয়েও ফের ‘আন্দোলনের নেত্রী’ ইমেজে ফিরে গিয়ে আসলে তৃণমূল কর্মীদের বুথস্তরে চাঙ্গা করতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী।