অপারেশন এপিক ফিউরি! মাটির তলার বাঙ্কারেও শেষ রক্ষা হল না খামেনেইর, ঘাতক সেই ‘ব্লু স্প্যারো’ আসলে কী?

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬— বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায়। তেহরানের অতি সুরক্ষিত পাস্তুর স্ট্রিটের এক বাংলোয় যখন জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন ৮৬ বছর বয়সী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই, ঠিক তখনই আকাশ থেকে নেমে এল মৃত্যু। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ অভিযানে নিহত হলেন খামেনেই। কিন্তু কোন সেই মরণাস্ত্র যা ইরানের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ভেদ করে মাটির তলার বাঙ্কারকেও গুঁড়িয়ে দিল? প্রকাশ্যে এল ইজরায়েলি মিসাইল ‘ব্লু স্প্যারো’-র রোমহর্ষক কাহিনী।

অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ ও ব্লু স্প্যারো:
ইজরায়েলি মিডিয়ার দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এতে ব্যবহার করা হয়েছিল ইজরায়েলের তৈরি অত্যন্ত শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্লু স্প্যারো’ (Blue Sparrow)। ৬.৫ মিটার লম্বা এবং ১.৯ টন ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সাধারণ কোনো অস্ত্র নয়। এটি মূলত একটি আধা-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা ১,২৪০ মাইল বা ২০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম।

কীভাবে কাজ করে এই ঘাতক অস্ত্র?
ব্লু স্প্যারো-কে সাধারণত ইজরায়েলি F-15 যুদ্ধবিমান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের পর এটি রকেটের মতো দ্রুত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওপর স্তরে উঠে যায়। এরপর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রচণ্ড গতিতে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুর ওপর আছড়ে পড়ে। বায়ুমণ্ডল থেকে পুনরায় প্রবেশের এই ক্ষমতার কারণে কোনো রাডার বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম একে আটকাতে পারে না। খামেনেই যে বাঙ্কারে ছিলেন, সেটি মাটির এতটাই গভীরে ছিল যে সেখানে পৌঁছাতে ৫ মিনিট সময় লাগত। কিন্তু ব্লু স্প্যারো-র তীব্র বিস্ফোরণ সেই কংক্রিটের আস্তরণকেও ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।

৪০ নেতার সলিল সমাধি:
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলায় খামেনেইর পাশাপাশি ইরানের প্রথম সারির ৪০ জন নেতা ও সামরিক আধিকারিক নিহত হয়েছেন। মৃতদের তালিকায় রয়েছেন ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুর রহিম মুসাভি। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো মাইলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ইরান ভেবেছিল হামলা হবে রাতে, কিন্তু ইজরায়েল ও আমেরিকা দিনের আলোতেই এই নিখুঁত অপারেশন শেষ করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে।