ভারত মহাসাগরে মার্কিন টর্পেডোর গর্জন! বিশাখাপত্তনম থেকে ফেরার পথে ডুবল ইরানের যুদ্ধজাহাজ, অস্বস্তিতে দিল্লি?

ভারত মহাসাগরের নীল জলরাশিতে মার্কিন টর্পেডোর আঘাত এবং ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’র সলিল সমাধি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার গলে-র দক্ষিণে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে মার্কিন সাবমেরিন থেকে ছোঁড়া টর্পেডোর আঘাতে ধ্বংস হয় ইরানের এই রণতরীটি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, জাহাজটি অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে একটি সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়ে দেশে ফিরছিল।

হামলার প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক জলসীমা:
পেন্টাগনের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, টর্পেডোর আঘাতে জাহাজটির পেছনের অংশে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেটি ধীরে ধীরে সমুদ্রের অতলে তলিয়ে যায়। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই হামলা আন্তর্জাতিক জলসীমায় হয়েছে। যদিও এলাকাটি শ্রীলঙ্কার ‘এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন’ (EEZ)-এর মধ্যে পড়ে, তবুও আন্তর্জাতিক নিয়ম (UNCLOS) অনুযায়ী যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সেখানে নৌচলাচলের বিশেষ আইনি মারপ্যাঁচ রয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, মহাসাগরের নাম ‘ভারত মহাসাগর’ হলেও তার ওপর ভারতের একচ্ছত্র আইনি নিয়ন্ত্রণ নেই।

ভারতের নিয়ন্ত্রণ কতটুকু?
জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী, ভারতের উপকূল থেকে মাত্র ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত দিল্লির পূর্ণ কর্তৃত্ব বজায় থাকে। ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে (EEZ) কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের অধিকার রয়েছে। এর বাইরে অর্থাৎ ‘হাই সিস’ এলাকায় যেকোনো দেশের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। ভারতের নাকের ডগায় আমেরিকার এই রণকৌশল দিল্লির কৌশলগত নেতৃত্বকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

কৌশলগত অস্বস্তিতে দিল্লি:
প্রখ্যাত বিশ্লেষক ব্রহ্মা চেলানি এই ঘটনাকে ভারতের জন্য ‘কৌশলগত অস্বস্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, ভারত এই অঞ্চলকে নিজের ‘প্রভাবাধীন এলাকা’ বলে দাবি করলেও, ভারতের পরম মিত্র আমেরিকার এই হামলা ভারতের আঞ্চলিক নেতৃত্ব এবং কূটনীতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ভারতের বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ এই সমুদ্রপথেই হয়, তাই ঘরের কাছে এমন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের সংজ্ঞাকে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করছে।