সন্তান নিলেই মিলবে ২৫,০০০ টাকা! জনসংখ্যা বাড়াতে ভারতের প্রথম ‘বেবি বোনাস’ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

ভারতে যখন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘকাল চর্চা চলেছে, ঠিক তখনই উল্টো পথে হাঁটার ডাক দিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। রাজ্যে আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া জন্মহার (Total Fertility Rate) নিয়ন্ত্রণে আনতে এক বৈপ্লবিক ঘোষণা করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যেসব দম্পতির দুই বা তার বেশি সন্তান রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ২৫,০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার।

কেন এই উল্টো পথ?
মুখ্যমন্ত্রী নাইডু উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশের জন্মহার ১.৫-এ নেমে এসেছে, যেখানে জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে আদর্শ হার হওয়া উচিত ২.১। তিনি বলেন, “একসময় আমরা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দিয়েছিলাম, এমনকি দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে নির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৫৮ শতাংশ পরিবারে মাত্র একটি সন্তান রয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কর্মী সংকট তৈরি হবে এবং বয়স্কদের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে।”

নতুন নীতি ও আইনি বদল:
নাইডু স্পষ্ট করে দেন যে, জনসংখ্যাই হলো সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সম্পদ। তিনি জানান, মার্চ মাসের শেষ নাগাদ একটি সুনির্দিষ্ট ‘জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা নীতি’ আনা হবে এবং এপ্রিল মাস থেকেই তা কার্যকর হবে। এমনকি দুইয়ের বেশি সন্তান থাকা ব্যক্তিদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিতে পুরনো আইন সংশোধন করার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে যাওয়া এবং জনসংখ্যা কমে যাওয়া দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির জন্য এক বড় বিপদ।

দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে উদ্বেগ:
মুখ্যমন্ত্রী নাইডুর আশঙ্কা, প্রজনন হার এভাবেই কমতে থাকলে ভবিষ্যতে লোকসভায় আসন বিন্যাসের সময় দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব অনেকটাই কমে যেতে পারে। তাই মানবসম্পদ সংকট এড়াতে তিনি রাজ্যের দম্পতিদের বেশি সন্তান নেওয়ার উৎসাহ দিচ্ছেন। অন্ধ্রপ্রদেশের এই পদক্ষেপকে অনেকেই ভারতের জনসংখ্যা রাজনীতির মোড় ঘোরানো ঘটনা হিসেবে দেখছেন।