নবাবী আতরে যুদ্ধের বিষাদ! পশ্চিম এশিয়ার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মাথায় হাত ভোপালের সুগন্ধি ব্যবসায়ীদের

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং বিশ্বরাজনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির আঁচ এবার সুদূর ভোপালের সুগন্ধি বাজারে। যে বাজারে একসময় নবাবি আমলের ঐতিহ্য আর সুবাস ম ম করত, আজ সেখানে শুধুই ক্ষতির হাহাকার। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, ইজরায়েল-ইরান উত্তেজনার জেরে কোটি কোটি টাকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যত ধ্বংসের মুখে।
ঐতিহ্যে টান:
ভোপালের জুমেরাত্রী, ইব্রাহিমপুরা এবং জাহাঙ্গিরাবাদ এলাকা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আতর ও সুগন্ধি ব্যবসার জন্য বিখ্যাত। সাধারণত রমজান মাসে এই বাজারে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়। কিন্তু এবছর পরিস্থিতি ভয়াবহ। কুরিয়ার পরিষেবা বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলিতে সুগন্ধি পাঠানো যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের দাবি, ১০০-র বেশি আন্তর্জাতিক অর্ডার বাতিল হয়েছে, যার ফলে রপ্তানি বাণিজ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ধস নেমেছে।
বিপাকে কারিগর ও ছোট কারখানা:
ভোপালের এই শিল্প শুধু বড় শোরুমের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছেন হাজার হাজার কারিগর, বোতল প্রস্তুতকারক এবং সুগন্ধি মিশ্রণকারীরা। প্রিমিয়াম ‘উড’ আতর, যার এক তোলার দাম ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে, তার বিক্রিও তলানিতে। ব্যবসায়ীরা জানান, আগে যেখানে রমজানে ১০ কোটির বেশি মাসিক ব্যবসা হতো, এবার তার অর্ধেক হওয়াও কঠিন।
ব্যবসায়ীদের আর্তনাদ:
১০০ বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠান ‘ভেনাস পার্ফিউমস’-এর মালিক রফিক আহমেদ রাজা জানান, “সরবরাহ ও পরিবহন দুই-ই বন্ধ। বিদেশ থেকে কাঁচামাল আসছে না, আবার আমাদের পণ্যও বিদেশে যাচ্ছে না। এমন মন্দা আগে দেখিনি।” একই সুর শোনা গেল ব্যবসায়ী আলতামাস জালালের গলায়। তাঁর মতে, প্রাকৃতিক উড তেলের একটি শিপমেন্টের দামই কয়েক লক্ষ টাকা, যা এখন মাঝপথে আটকে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভোপালের ছোট ছোট সুগন্ধি কর্মশালাগুলি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।