নেপালে গণতন্ত্রের মহোৎসব! Gen Z-এর দাপটে ৬০% ভোট, ভারতের সাহায্যে সফল নির্বাচন

প্রতিবাদের উত্তাপ আর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত সাফল্যের মুখ দেখল নেপালের সাধারণ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হলো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল তরুণ প্রজন্মের অর্থাৎ ‘Gen Z’ ভোটারদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ।
চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে সফল নির্বাচন:
বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার রাম প্রসাদ ভান্ডারী নেপালের জনগণকে অভিনন্দন জানান। সম্প্রতি তরুণ প্রজন্মের বড়সড় প্রতিবাদের জেরে এই নির্বাচন আয়োজন করা নেপাল সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল। কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টরাই জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা এবং কড়া নিরাপত্তার কারণেই এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সফল হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বুথমুখী হয়েছেন।
তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা ও ভারতের সহায়তা:
এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রার্থী হিসেবে যেমন বহু তরুণ মুখ সামনে এসেছেন, তেমনই ভোটার হিসেবেও তারা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছেন। নেপালের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছে কমিশন। ভারতের পক্ষ থেকে গাড়ি এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভোট গ্রহণে সহায়ক হয়েছে। ভারতের সঙ্গে নেপালের এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নির্বাচনের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ভোট গণনা ও ফলাফল:
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরেই ব্যালট বাক্সগুলো নির্ধারিত গণনা কেন্দ্রে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার থেকেই ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ (FPTP) পদ্ধতির ভোট গণনা শুরু হবে। এরপর আনুপাতিক পদ্ধতির ভোট গোনা হবে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই নেপালের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।