প্রথমবার উত্তরবঙ্গে পা রাখছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হল পাহাড় থেকে সমতল!

দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার পর এই প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে আসছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শুক্রবার থেকে শুরু হতে চলা তাঁর এই দু’দিনের সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি পথ— সর্বত্রই এখন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা।
সফরের সূচি ও বিশেষ কর্মসূচি:
সূত্রের খবর অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলেই বাগডোগরা বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন রাষ্ট্রপতি। সেখান থেকে তিনি সরাসরি সড়কপথে রওনা দেবেন দার্জিলিংয়ের রাজভবনের (লোকভবন) উদ্দেশ্যে। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে এদিন একটি বিশেষ সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। রাষ্ট্রপতির হাত ধরেই আনুষ্ঠানিকভাবে উদবোধিত হবে ‘দার্জিলিং হিল ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত শৈলশহর দার্জিলিংয়ের সংস্কৃতি ও পর্যটনকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতেই এই উৎসবের আয়োজন।
দ্বিতীয় দিনের ব্যস্ততা ও ভেন্যু পরিবর্তন:
সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ শনিবার রাষ্ট্রপতির ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। সূচি অনুযায়ী, এদিন সকালে তিনি পাহাড় থেকে নেমে শিলিগুড়ির অদূরে গোঁসাইপুরে পৌঁছাবেন। মূলত একটি বিশেষ আদিবাসী সম্মেলনে যোগ দেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানটি আগে বিধাননগরে হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তার নিরিখে শেষ মুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করে গোঁসাইপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও, রাষ্ট্রপতি গোঁসাইপুর থেকেই ভার্চুয়ালি বিধাননগরের অনুষ্ঠানটির উদবোধন করবেন। একইসঙ্গে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে একটি বৃক্ষরোপণ উৎসবেও অংশ নেবেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের সম্মেলন:
এবারের সফরের অন্যতম আকর্ষণ হল আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের নবম বার্ষিক সম্মেলন। গত বছর অসমে আয়োজিত হলেও, এবার এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলনের আসর বসেছে উত্তরবঙ্গে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নিজেই এই সম্মেলনের উদবোধন করবেন। দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার প্রতিনিধি ছাড়াও এই মেগা ইভেন্টে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং একঝাঁক ভিভিআইপি ব্যক্তিত্বের। সম্মেলনে মূলত আদিবাসী সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রাচীন শিল্পকলা নিয়ে গভীর আলোচনা হওয়ার কথা।
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পুলিশের বিশেষ টিম এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রতিটি মোড়ে নজরদারি চালাচ্ছে। শনিবারের কর্মসূচির পর ওই দিন বিকেলেই তিনি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।