নেপালে কি ক্ষমতার পটপরিবর্তন? জোড়া ব্যালটে ভোট সম্পন্ন, ফলাফলের দিনক্ষণ জানাল কমিশন!

উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস হিমালয় ঘেরা পাহাড়ি দেশ নেপালে। বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তার বলয়ে সম্পন্ন হলো নেপালের সাধারণ নির্বাচন। সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও নেপাল নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক সূত্র অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হার প্রায় ৬০ শতাংশ।
২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৬১.৬৩ শতাংশ। সেই তুলনায় এবারের ভোটদানের হারে বিশেষ পতন ঘটেনি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত বছরের শেষভাগে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধকরণকে কেন্দ্র করে জেন-জি (Gen-Z) তথা তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভ এবং পরবর্তীকালে নির্বাচিত সরকারের পতনের পর এই নির্বাচন ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবেই মিটেছে এই ভোট উৎসব।
কেন এই ‘জোড়া ব্যালট’? নেপালের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের (House of Representatives) মোট ২৭৫টি আসনের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য এই জোড়া ব্যালট ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়। নেপালের ২০১৫ সালের সংবিধান অনুযায়ী দেশটিতে মিশ্র নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রচলিত।
-
প্রথম পদ্ধতি (FPTP): ১৬৫টি আসনে সরাসরি বা ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ পদ্ধতিতে ভোট হয়েছে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে যিনি সর্বাধিক ভোট পাবেন, তিনিই জয়ী।
-
দ্বিতীয় পদ্ধতি (Proportional): বাকি ১১০টি আসনে পরোক্ষ বা সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে ভোট নেওয়া হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত মোট ভোটের শতাংশের ভিত্তিতে প্রতিনিধিদের মনোনীত করা হয়।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৯০ লক্ষেরও বেশি। তবে সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো প্রার্থীদের প্রোফাইল। মোট ৬৫৪১ জন প্রার্থীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীই ছিলেন ৪০ বছরের কমবয়সী। রাজনৈতিক মহলের মতে, তরুণ প্রজন্মের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নেপালের রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ফলাফল কবে? ভোট গ্রহণ শেষ হতেই শুরু হয়ে গিয়েছে পরবর্তী পর্যায়ের প্রস্তুতি। ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই নেপালের অন্তত ১০টি কেন্দ্রে ব্যালট গণনা শুরু করা হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, আগামী ৯ মার্চের মধ্যেই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি। এখন দেখার, কাঠমান্ডুর তখতে শেষ পর্যন্ত কার রাজতিলক জোটে।