আমেরিকায় ব্যবসা করা সংস্থাগুলির বড় জয়! ১৩০ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, বিপাকে হোয়াইট হাউস

বিশ্বজুড়ে নিজের মর্জিমতো শুল্ক চাপিয়ে যে বিপুল অর্থ আদায় করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এবার তা সুদে-আসলে ফেরত দেওয়ার সময় এসেছে। বুধবার ম্যানহ্যাটনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছে, ট্রাম্প সরকারের আদায় করা ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকা) অবিলম্বে ব্যবসায়ীদের ফিরিয়ে দিতে হবে। আদালতের এই নির্দেশ ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির ওপর এক বিশাল চপেটাঘাত বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
কেন এই শুল্ককে ‘অবৈধ’ বলা হলো? গত মাসেই মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ট্রাম্প জাতীয় জরুরি অবস্থার আইনকে অপব্যবহার করে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই এই শুল্ক চাপিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের সেই পর্যবেক্ষণকে হাতিয়ার করেই এবার বাণিজ্য আদালতের বিচারক রিচার্ড ইটন নির্দেশ দিয়েছেন, অবৈধ পথে আয় করা এই বিপুল অর্থ কাস্টমসকে ফেরত দিতে হবে। বিচারকের সাফ কথা, “কাস্টমস জানে তাদের ঠিক কী করতে হবে!”
কারা পাবেন এই টাকা? এই রায়ের ফলে কোনো নির্দিষ্ট দেশ নয়, বরং যে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী সংস্থাগুলি এতদিন ট্রাম্পের ‘শুল্ক-নীতি’র মাশুল গুনেছে, তারা এই টাকা ফেরত পাবে। পাশাপাশি, আমেরিকায় প্রবেশের জন্য পণ্যবাহী জাহাজগুলিকে যে অতিরিক্ত ফি দিতে হতো, সেটিও তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আংশিক পিছুটান ট্রাম্পের: চাপের মুখে পড়ে ইতিমধ্যেই হোয়াইট হাউস ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকনোমিক পাওয়ার অ্যাক্ট’-এর অধীনে কিছু শুল্ক আমদানি বন্ধ করার নির্দেশিকা জারি করেছে। তবে আদালতের এই নতুন নির্দেশের পর ট্রাম্প সরকার কীভাবে এই বিশাল পরিমাণ অর্থ ফেরাবে, তা নিয়ে মার্কিন অর্থনীতিতে বড়সড় অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।