শান্তিপুরে বিষাদের হোলি! একই বুথে ৩৫০ জনের নাম ডিলিট, SIR আতঙ্কে কান্নায় ভাঙল গ্রাম

দোরগোড়ায় রঙের উৎসব, অথচ নদীয়ার শান্তিপুরে এখন শোকের ছায়া। সৌজন্যে সেই বিতর্কিত ‘এসআইআর’ (SIR)। শান্তিপুর থানার হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নীলকুঠিপাড়া গ্রামে একই বুথের ৩৫০ জন ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। যেখানে গোটা দেশ হোলির রঙে মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেখানে ৬৬ নম্বর বুথের কয়েক’শো পরিবার এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ ও নাগরিকত্ব নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

৫৫০ জনের শুনানিতে ৩৫০ জনই বাদ! সূত্রের খবর, ওই বুথে মোট ভোটার ছিলেন ৯৭৫ জন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে এসআইআর শুনানির জন্য ৫৫০ জনকে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা যায়, ওই ৫৫০ জনের মধ্যে ৩৫০ জনের নামই ‘ডিলিটেড’ বা বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এক লহমায় একটি বুথের অর্ধেকের বেশি ভোটার ব্রাত্য হয়ে পড়েছেন।

বিএলও বনাম ভোটার—তুঙ্গে তরজা: স্থানীয়দের অভিযোগ, বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-র চরম গাফিলতির কারণেই এই বিপর্যয়। সঠিক তথ্য সংগ্রহ না করা এবং সাধারণ মানুষকে ভুল পথে চালিত করার অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। যদিও সংশ্লিষ্ট বিএলও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “অনেকেই ফর্ম ঠিকমতো পূরণ করেননি বা পর্যাপ্ত নথি দেননি। কমিশনের নিয়ম মেনেই নাম বাদ গেছে।”

ভবিষ্যৎ কী? এই গণহারে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীরা একে ভোটাধিকার হরণের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। ওই ৩৫০ জন মানুষ কীভাবে আবার তালিকায় ফিরবেন, তার কোনো স্পষ্ট দিশা মেলেনি। উৎসবের মরশুমে নীলকুঠিপাড়ার ঘরে ঘরে এখন একটাই প্রশ্ন— তাঁরা কি তবে নিজেদের দেশে ‘পরবাসী’ হয়ে গেলেন?