নেপালে Gen Z বিপ্লবের পর প্রথম ভোট, চলল গুলি, ৭০০ জনের ভোট বয়কট!

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যে তরুণ প্রজন্ম রাজপথে নেমে কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন ঘটিয়েছিল, আজ ব্যালট বক্সের মাধ্যমে তাদেরই ইচ্ছাপ্রকাশের দিন ছিল। নেপালে নতুন সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটদান প্রক্রিয়া শেষ হলো। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও সারা দেশে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে। প্রায় ১ কোটি ৯০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে বিশাল সংখ্যক তরুণ ভোটারের অংশগ্রহণ এই নির্বাচনকে ইতিহাসের পাতায় তুলে এনেছে।
আজ রাত থেকেই গণনার উত্তেজনা নেপাল নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বেশিরভাগ শহরাঞ্চলে যেখানে উন্নত ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে আজ রাত থেকেই ভোট গণনা শুরু হবে। মাঝরাতের পর থেকেই প্রাথমিক ট্রেন্ড বা প্রবণতা পাওয়া যেতে পারে। তবে হিমালয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ব্যালট বাক্সগুলো সুরক্ষিতভাবে জেলা সদরে আনার কাজ চলছে; সেখানে গণনা শুরু হতে আগামিকাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
ওখলঢুঙ্গায় অশান্তি ও গুলি ভোট গ্রহণ পর্ব মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ হলেও লুম্বিনি প্রদেশের ওখলঢুঙ্গা জেলায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একটি ভোটকেন্দ্রে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে সেনাবাহিনী নামাতে বাধ্য হয় প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা ১৩ রাউন্ড গুলি চালায়। এই ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন এবং বুথে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখতে হয়।
হাসপাতাল নেই, তাই ভোটও নেই! গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে প্রতিবাদের এক ভিন্ন রূপ দেখল ওখলঢুঙ্গা জেলার মানেভাঞ্জ্যং গ্রাম পঞ্চায়েত। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত হাসপাতাল ভবন নির্মিত না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছিলেন গ্রামবাসীরা। প্রতিবাদে ওই ওয়ার্ডের ৭০১ জন রেজিস্ট্রেড ভোটার একজোট হয়ে নির্বাচন বয়কট করেন। সারাদিনে সেখানে একটিও ভোট পড়েনি।
পরাশক্তিদের নজর নেপালে ২০২৫ সালের সেই সহিংস ‘Gen Z’ আন্দোলনের পর এটাই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করার পর প্রাক্তন বিচারপতি সুশীলা কার্কির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে এই ভোট পরিচালিত হলো।
-
মূল লড়াই: মূলত ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে— কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বালেন শাহ, অভিজ্ঞ নেতা কেপি শর্মা ওলি এবং তরুণ প্রজন্মের প্রিয় মুখ গগন থাপা।
বিশ্বের নজর এখন কাঠমান্ডুর দিকে, কারণ এই নির্বাচনের ফলই ঠিক করে দেবে আগামী দিনে হিমালয়ের দেশ নেপাল কোন পথে এগোবে।