খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ভারতের! ট্রাম্পের হুমকির মুখেও কি তেহরানের পাশেই দিল্লি?

ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের প্রয়াণে অবশেষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ইরানি দূতাবাসের শোকবার্তার খাতায় (Condolence Book) স্বাক্ষর করেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি। গত শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ভারতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনেইকে ‘দুষ্ট ব্যক্তিত্ব’ বলে আক্রমণ করেছেন, তখন ভারতের এই শোকপ্রকাশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ট্রাম্পের আক্রমণ ও খামেনেই হত্যা: গত শনিবার ভোরে ইজরায়েল ও আমেরিকার এক গোপন সামরিক অভিযানে খামেনেই নিহত হন। রাতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন যে, ইতিহাসের অন্যতম এক ‘খলনায়ক’-এর অবসান হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি ছিল, এই মৃত্যু বিশ্বের জন্য ন্যায়বিচার। কিন্তু ভারত আমেরিকার এই আগ্রাসী মনোভাবের সঙ্গে সরাসরি পা মেলায়নি।

ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে ভারত বরাবরই নিরপেক্ষ। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ভারত সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ইজরায়েল বা আমেরিকার নিন্দা করেনি। তবে বিদেশ সচিবের মাধ্যমে শোকবার্তা পাঠিয়ে ভারত বুঝিয়ে দিল, তেহরানের সঙ্গে দিল্লির দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক তারা বিসর্জন দিতে রাজি নয়।

বিশ্বের মেরুকরণ: খামেনেইয়ের মৃত্যুতে বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েল যখন আনন্দ উৎসবে মত্ত, অন্যদিকে রাশিয়া ও চিন একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে তোপ দেগেছে। এমতাবস্থায় ভারতের এই ‘কনডোলেন্স বুক’-এ সই করা আসলে ট্রাম্পের একতরফা আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক নিঃশব্দ কিন্তু শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।