ঘরে বসেই হবে জনগণনা! শাহের হাত ধরে এল ‘প্রগতি’ ও ‘বিকাশ’, ২০২৭-এ ডিজিটাল বিপ্লব

ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবার ডিজিটাল বিপ্লব ঘটতে চলেছে জনসংখ্যা গণনায়। ২০২৭ সালের আদমশুমারিতে আর খাতা-কলম নয়, বরং আধুনিকভাবে ডেটা সংগ্রহের জন্য চারটি বিশেষ ডিজিটাল টুল এবং ম্যাসকটের উন্মোচন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সি-ড্যাক (C-DAC) নির্মিত এই হাইটেক প্ল্যাটফর্মগুলির সফট লঞ্চ করেন তিনি।

প্রগতি ও বিকাশ: ২০৪৭-এর লক্ষ্য এবার ভারতের আদমশুমারির মুখ হতে চলেছে দুই বিশেষ ম্যাসকট— ‘প্রগতি’ (মহিলা গণনাকারী) এবং ‘বিকাশ’ (পুরুষ গণনাকারী)। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণের প্রতীক হিসেবেই এঁদের আনা হয়েছে। শাহের মতে, এই ম্যাসকটগুলি সাধারণ মানুষের কাছে আদমশুমারির বার্তা সহজেই পৌঁছে দেবে।

ডিজিটাল টুল ও স্ব-গণনার সুযোগ: ২০২৭-এর জনগণনা হবে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি নির্ভর। স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে ঘর তালিকাভুক্ত করা থেকে শুরু করে ১৬টি ভাষায় ডেটা সংগ্রহের জন্য ‘HLO মোবাইল অ্যাপ’ আনা হয়েছে। সবচেয়ে বড় চমক হলো ‘স্ব-গণনা পোর্টাল’। এর মাধ্যমে নাগরিকরা চাইলে নিজের তথ্য নিজেরাই অনলাইনে নথিভুক্ত করতে পারবেন, যা পরে গণনাকারীরা যাচাই করে নেবেন।

কবে কোন ধাপে গণনা? এই বিশালাকার কর্মযজ্ঞ দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে:

  • প্রথম ধাপ (১ এপ্রিল – ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬): আবাসন ও পারিবারিক সুযোগ-সুবিধার তথ্য সংগ্রহ।

  • দ্বিতীয় ধাপ (ফেব্রুয়ারি ২০২৭): মূল জনসংখ্যা গণনা। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ধাপেই জাতপাত সংক্রান্ত প্রশ্নটিও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। লাদাখ ও কাশ্মীরের মতো পার্বত্য এলাকায় ২০২৬-এর সেপ্টেম্বরেই এই কাজ সেরে ফেলা হবে। ভারতের এই প্রথম ডিজিটাল আদমশুমারিকে বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তিগত সার্ভে হিসেবে দেখা হচ্ছে।