BigNews: পদত্যাগ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, নেপথ্যে কি শাহের চাপ?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে রাজভবনে বিরাট পটপরিবর্তন। আচমকাই পদত্যাগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই খবর চাউর হতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর, পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই কেন তিনি সরলেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা।
দিল্লিতে বসেই ইস্তফা, কী বলছেন বোস? শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সিভি আনন্দ বোস বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। নিজের পদত্যাগ প্রসঙ্গে সংবাদসংস্থা PTI-কে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি রহস্য জিইয়ে রেখে বলেন, “রাজ্যপালের দফতরে আমি যথেষ্ট সময় কাটিয়েছি।” তবে এর বাইরে নির্দিষ্ট কোনো কারণ তিনি খোলসা করেননি।
বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের এই আকস্মিক পদত্যাগে স্তম্ভিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন কেন্দ্রের দিকে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি—
“আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (অমিত শাহ) তরফে রাজ্যপালের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করা হয়ে থাকলে আমি বিস্মিত হব না।”
সংঘাতের ইতিহাস ও রাজনৈতিক সমীকরণ সিভি আনন্দ বোসের কার্যকাল ছিল আক্ষরিক অর্থেই কন্টকাকীর্ণ। একদিকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা তাঁকে ‘বিজেপির লোক’ বলে আক্রমণ করেছেন। অন্যদিকে, রাজভবনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতারাও। শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদাররা একাধিকবার প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন যে, রাজ্যপাল নিজের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ।
ভোটের মুখে নতুন জল্পনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যপালের পদত্যাগ নিছক প্রশাসনিক কোনো ঘটনা নয়। এর নেপথ্যে কি কোনো বড় রাজনৈতিক চাল রয়েছে? নাকি রাজভবনে নতুন কোনো মুখ এনে মেরুকরণের রাজনীতিতে শান দিতে চাইছে কেন্দ্র? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলার অলিতে-গলিতে।