রান্নাঘরে যুদ্ধের আঁচ! মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপে কি আরও মহার্ঘ্য হবে এলপিজি? দুশ্চিন্তায় আমজনতা

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে চলেছে ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি (LPG) সরবরাহ নিয়ে বড়সড় সংকটের মেঘ ঘনিয়ে আসছে। ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে, যার সিংহভাগই আসে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে।
কেন চিন্তায় ভারত? অপরিশোধিত তেল বা এলএনজি-র ক্ষেত্রে ভারতের হাতে বিকল্প থাকলেও এলপিজির ক্ষেত্রে বিকল্প উৎস অত্যন্ত সীমিত। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক এবং এই আমদানির ৯০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। সরকারি সূত্রের খবর, বর্তমানে ভারতের হাতে যা এলপিজি মজুত আছে, তা দিয়ে বড়জোর ৩০ দিন চলতে পারে। মার্চ মাসে নতুন চালান না পৌঁছালে এবং গ্রাহকরা আতঙ্কিত হয়ে অগ্রিম বুকিং শুরু করলে এই মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে।
পরিবহন ও দামের ওপর প্রভাব: উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে একটি ট্যাঙ্কার ভারতে পৌঁছাতে ৫-৭ দিন সময় লাগে। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যদি আটলান্টিক মহাসাগর হয়ে ঘুরে জাহাজ আনতে হয়, তবে সময় লাগবে ২৫-৪৫ দিন। এর ফলে পরিবহন খরচ আকাশছোঁয়া হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে এলপিজি সিলিন্ডারের দামের ওপর। সরকার ভর্তুকি না বাড়ালে রান্নার গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে। ইতিমধ্যেই কাতার থেকে এলএনজি আমদানিতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।