“ভারতে চাল, ডালের দাম বাড়তে পারে”-জেনেনিন কতটা পড়বে যুদ্ধের প্রভাব?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ষষ্ঠ দিনেও দাপট দেখাচ্ছে ইরান। পরাশক্তি আমেরিকার সামনে মাথা নত করা তো দূর অস্ত, উল্টে পালটা মারে মার্কিন ড্রোন ও মিসাইল ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করছে তেহরান। কিন্তু এই যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি লাগতে চলেছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। সৌজন্যে— ‘হরমুজ প্রণালী’।
তেলের বাজারে অগ্নিকাণ্ড: ১০০ ডলারের হাতছানি! বিশ্বের মোট অশোধিত তেলের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় এই সরু সমুদ্রপথ দিয়ে। ইরান এই পথ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতেই বিশ্ববাজারে হাহাকার শুরু হয়েছে।
-
পরিসংখ্যান: গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলার। আজ ৫ মার্চ তা পৌঁছেছে ৭৭.৭৫ ডলারে।
-
আশঙ্কা: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ না থামলে তেলের দাম খুব দ্রুত ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এর ফলে ভারত, চীন ও জাপানের মতো আমদানিকারক দেশগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়বে।
চাল-ডাল-মাছ: দাম বাড়বে সবকিছুর? জ্বালানির দাম বাড়া মানেই পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি। ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়লে ট্রাক ভাড়া বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর। চাল, ডাল থেকে শুরু করে মাছ-মাংসের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রেকর্ড পতন ভারতীয় মুদ্রার যুদ্ধের বাজারে সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মুখে ভারতীয় টাকা। ইতিহাসে এই প্রথম এক ডলারের বিপরীতে টাকার দাম নেমে দাঁড়িয়েছে ৯২.৩১-এ। মুদ্রার এই রেকর্ড পতন আমদানিকৃত পণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ভারতের হাতে কতদিনের রসদ? উদ্বেগের মাঝেই কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে রিপোর্ট। ভারতের কাছে বর্তমানে:
-
অশোধিত তেল: ১৭-১৮ দিনের মজুত রয়েছে।
-
পেট্রোল-ডিজেল: ২০-২১ দিনের ব্যাকআপ আছে।
-
এলএনজি (LNG): ১০-১২ দিনের মজুত রয়েছে।
বিপদের বন্ধু সেই রাশিয়া! এই কঠিন সময়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘পুরনো বন্ধু’ রাশিয়া। রয়টার্স সূত্রে খবর, প্রায় ৯.৫ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ান তেল ইতিমধ্যেই সমুদ্রপথে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। নয়াদিল্লির সবুজ সংকেত পেলেই এই বিশাল তেলের ভাণ্ডার পৌঁছে যাবে ভারতীয় বন্দরে, যা দেশের জ্বালানি সংকট মেটাতে বড় ভূমিকা নেবে।