‘মতুয়াদের নিয়ে নোংরা রাজনীতি বরদাস্ত করব না!’ বড়মার প্রয়াণ দিবসে শাহ-মোদীদের চরম হুঁশিয়ারি মমতার

মতুয়া মহাসংঘের ‘বড়মা’ বীণাপানি দেবীর তিরোধান দিবসে একদিকে যেমন আবেগঘন স্মৃতিচারণায় ডুব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে নাগরিকত্ব (CAA) ও এসআইআর (SIR) ইস্যুতে সুর চড়ালেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মতুয়া সমাজের মানুষের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা তাঁদের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়ার কোনো চক্রান্তই তিনি সফল হতে দেবেন না।

বড়মার সঙ্গে আত্মিক টান ও ‘বঙ্গবিভূষণ’ বীণাপানি দেবীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, বড়মার মাতৃস্নেহ তিনি সর্বদা পেয়েছেন এবং তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজনে সর্বদা পাশে দাঁড়িয়েছেন। শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের প্রদর্শিত পথে দলিত ও অবহেলিত মানুষের অধিকার রক্ষায় বড়মার আজীবন লড়াইকে সম্মান জানিয়ে রাজ্য সরকার তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছিল।

উন্নয়নের খতিয়ান বনাম রাজনৈতিক আক্রমণ বড়মার স্মৃতি তর্পণের পাশাপাশি মতুয়াদের জন্য তাঁর সরকারের নেওয়া একগুচ্ছ পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা থেকে শুরু করে ঠাকুরনগরে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, গাইঘাটায় সরকারি কলেজ, আইটিআই ও পলিটেকনিক তৈরির কথা উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়াও হাবড়া-গাইঘাটা এলাকায় ‘জলতৃপ্তি’ প্রকল্প এবং অত্যাধুনিক ফুলমান্ডি তৈরির মাধ্যমে মতুয়া সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাঁর সরকার যে বদ্ধপরিকর, তা প্রমাণ করেন মমতা।

কেন্দ্রকে কড়া তোপ উন্নয়নের ফিরিস্তি দেওয়ার পরই সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নাগরিকত্ব প্রদানের নাম করে কেন্দ্র মতুয়া ভাই-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তাঁর অভিযোগ, ভোটের স্বার্থে বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। মতুয়াদের অধিকার রক্ষায় তিনি শেষ পর্যন্ত লড়বেন বলে এদিন অঙ্গীকার করেন তৃণমূল নেত্রী।