ডিএ যুদ্ধে নবান্নর পিঠ ঠেকেছে দেওয়ালে! ১০,৪০০ কোটির খাঁড়া, সুপ্রিম কোর্টের চরম হুঁশিয়ারি দিদি- সরকারকে

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাঁড়াশি চাপে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার যে কড়া নির্দেশ শীর্ষ আদালত দিয়েছে, তা পালন করতে গিয়ে নবান্নের কোষাগারে ১০,৪০০ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক বোঝা চাপতে চলেছে। বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ডিএ কোনো দয়া নয়, এটি কর্মীদের আইনি অধিকার।
আর্থিক সংকট ও আইনি লড়াইয়ের পথে নবান্ন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র একটি বড় অংশ এই অর্থবর্ষের মধ্যেই মেটাতে হবে। কিন্তু ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনমুখী প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং নতুন করে ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণার ফলে রাজ্যের খরচ একধাক্কায় ২২,৭০০ কোটি টাকা বেড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার কি ‘রিভিউ পিটিশন’ বা ‘কিউরেটিভ পিটিশন’ দাখিল করে সময় বাড়ানোর চেষ্টা করবে? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রায়ের কপি খতিয়ে দেখতে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে ধর্মঘট ও চূড়ান্ত ডেডলাইন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার দাবিতে আগামী ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে সরকারি কর্মচারীরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। অন্যদিকে, শীর্ষ আদালত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে, যারা বকেয়া মেটানোর পূর্ণাঙ্গ সূচি তৈরি করবে। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে রাজ্যকে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ জমা দিয়ে জানাতে হবে তারা নির্দেশ পালন করেছে কি না। এখন দেখার, নবান্ন আইনি পথে নতুন প্যাঁচ খোঁজে নাকি কর্মীদের ন্যায্য পাওনা মিটিয়ে দিয়ে আদালত অবমাননার হাত থেকে রক্ষা পায়।