ইরানের কাছে হারবে আমেরিকা-ইজরায়েল! ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে মিলে যাওয়া সেই ভবিষ্যৎবক্তা কী বলছেন?

পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ যখন চরমে, তখনই দুনিয়া জুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন ‘চিনের নস্ত্রাদামুস’ হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক জুয়েকিন জিয়াং (Xueqin Jiang)। তাঁর দাবি, এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ইরানের কাছে হার মানতে হবে মহাশক্তিধর আমেরিকাকে। ড্রাগন দেশের এই ভবিষ্যৎবক্তার কথাকে হালকাভাবে নিতে পারছেন না অনেকেই, কারণ ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে করা তাঁর আগের দুটি ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে মিলে গিয়েছিল।
ট্রাম্পের ফেরা এবং যুদ্ধের পূর্বাভাস ২০২৪ সালের মে মাসেই জুয়েকিন জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প যদি ফের ক্ষমতায় আসেন তবে তাঁর ওপর নজিরবিহীন ভূ-রাজনৈতিক চাপ তৈরি হবে এবং তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বেন। বর্তমানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও পরিকাঠামোর ওপর আমেরিকা-ইজরায়েলের ভয়াবহ হামলার পর সেই কথা মিলে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। জুয়েকিন সতর্ক করেছিলেন যে, এই সংঘর্ষ আমেরিকার জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হবে। ইতিহাসের এথেন্স ও সিসিলি অভিযানের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, নিশ্চিত জয় ভেবে যুদ্ধে নেমেও অনেক সময় শক্তিশালী পক্ষকে ধুলোয় মিশতে হয়।
কেন হারবে আমেরিকা? জুয়েকিনের যুক্তি অধ্যাপক জুয়েকিনের মতে, ইরান গত ২০ বছর ধরে এই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বন্ধুর পার্বত্য অঞ্চল এবং দীর্ঘস্থায়ী গেরিলা যুদ্ধে ইরান অনেক বেশি সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরান গত এক বছরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের রণকৌশল গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছে। ইরানের সহযোগী সংগঠন হুথি, হেজবোল্লা এবং হামাস এখন মার্কিন সাম্রাজ্যের মানসিকতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখে। জুয়েকিনের সাম্প্রতিকতম হুঁশিয়ারি— এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে এবং যখন থামবে, তখন পৃথিবী আর আগের মতো থাকবে না। আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদ গুঁড়িয়ে যাওয়ার সময় কি তবে চলে এল? উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ।