কালো চশমা আর র্যাপ গানেই কুপোকাত প্রতিপক্ষ! কে এই বলেন্দ্র শাহ, যিনি রাতের ঘুম কেড়েছেন কেপি শর্মা অলির?

প্রতিবেশী দেশ নেপালে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। ২০২৫ সালের সেই ঐতিহাসিক ‘জেন-জি’ বিদ্রোহের পর আজ, ৫ মার্চ নেপালের জাতীয় নির্বাচনে সব নজর কেড়ে নিয়েছেন এক যুবক—বলেন্দ্র শাহ, যাঁর জনপ্রিয় নাম ‘বলেন’। একসময়ের জনপ্রিয় র্যাপার এবং কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন্দ্র এবার সরাসরি টক্কর দিচ্ছেন হেভিওয়েট নেতা তথা সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির বিরুদ্ধে। নেপালের যুবসমাজের কাছে আইকন হয়ে ওঠা বলেন্দ্রর উত্থান দাবার চালের মতো বদলে দিয়েছে হিমালয় কোলের এই দেশের রাজনীতির সমীকরণ।
র্যাপার থেকে রাজনীতির ময়দান: এক উল্কাসম উত্থান ২০১৩ সালের আগে বলেন্দ্রকে সেভাবে কেউ চিনত না। পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বলেন্দ্র কর্ণাটকের বিশ্বেশ্বরায়া টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন এবং বর্তমানে পিএইচডি করছেন। কিন্তু তাঁর পরিচিতি বাড়ে সরকার বিরোধী র্যাপ গানের মাধ্যমে, যা নেপালের তরুণ প্রজন্মের হৃদস্পন্দন হয়ে ওঠে। কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা তাঁকে জাতীয় স্তরের নেতৃত্বে উন্নীত করে। গত বছর অলি সরকারের পতনের পর যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাব আসে, তখন বলেন্দ্র নিজে পদ না নিয়ে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে সমর্থন করে নিজের রাজনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয় দেন।
ভারত ও চিন নয়, লক্ষ্য কেবল ‘নেপাল’ নেপালের রাজনীতি সাধারণত ভারতপন্থী বা চিনপন্থী—এই দুই মেরুতে বিভক্ত থাকে। কিন্তু বলেন্দ্র শাহ এখানে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি নিজেকে কট্টর ‘নেপালপন্থী’ হিসেবে পরিচয় দেন। এমনকি একবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারত ও চিন উভয় দেশকেই এক সারিতে রেখে তোপ দেগেছিলেন তিনি। যদিও পরে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্রতা পার্টিতে (RSP) যোগ দেন। তাঁর সিগনেচার কালো জ্যাকেট আর কালো সানগ্লাস এখন নেপালের তারুণ্যের প্রতীক। আগামীকাল থেকে শুরু হবে ভোট গণনা, আর ৭ মার্চের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে নেপালের কুর্সিতে র্যাপার বলেন্দ্রর ‘জেন-জি’ বিপ্লব সফল হয় কি না।