সিইও দফতরের সামনে বামেদের ‘রণহুঙ্কার’! একটি নাম বাদ গেলেও ভোট হতে দেব না: হুঁশিয়ারি বিমান বসুর

নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই চরম উত্তেজনা রাজ্য রাজনীতিতে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং ‘বিচারাধীন’ তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বুধবার রাত থেকে কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন বাম নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবারও সেই আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়িয়ে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “একটা বৈধ ভোটারকে বাদ দিয়েও যদি কমিশন ভোট করাতে চায়, তবে আমরা তা মেনে নেব না।”
আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ৬০ লক্ষ ভোটার: বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যে প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ বা অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিমান বসুর প্রশ্ন, “যাঁদের নাম বাদ গেল, তাঁদের কি কারণ জানানো হয়েছে? তাঁদের সমাধান না করে ভোট হবে কীভাবে?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগে এসআইআর হলেও কেউ টের পেত না, কিন্তু এবার পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতির চেষ্টা চলছে।
খোলা আকাশের নিচে রাত কাটালেন সেলিম-মীনাক্ষীরা: সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বুধবার থেকে সিইও দফতরের সামনে শুরু হয়েছে অবস্থান। মীনাক্ষী সাফ জানিয়েছেন, সিইও মনোজ আগরওয়াল নিজে দেখা না করা পর্যন্ত তাঁরা এক চুলও নড়বেন না। তাঁদের দাবি, ভোটারদের অন্ধকারে রেখে আধিকারিকরা বহাল তবিয়তে থাকবেন, তা বরদাস্ত করা হবে না।
তৃণমূল-বিজেপির পর এবার বামেদের হুঙ্কার: ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি পরস্পরের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে। এবার বামেদের এই আন্দোলন নতুন মাত্রা যোগ করল। ৯ মার্চ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে আসার আগে এই আন্দোলন প্রশাসন ও কমিশনের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।