নির্বাচনের আগে ‘অ্যাকশন মোডে’ লালবাজার! দাগি অপরাধীদের তালিকা তলব করলেন নগরপাল

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল কলকাতা পুলিশ। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্ছিদ্র রাখতে ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার। বৃহস্পতিবার লালবাজারে সমস্ত থানার অফিসার ইনচার্জ (OC) এবং ডেপুটি কমিশনারদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকে বসেন তিনি। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের আগে ও চলাকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখে দেওয়া।
অপরাধীদের ওপর বাজপাখির নজর এবারের নির্বাচনে লালবাজারের রণকৌশলের মূলে রয়েছে ‘অ্যান্টি রাউডি অফিসার’ (ARO)-দের সক্রিয়তা। শহরের প্রতিটি থানার দাগি অপরাধী ও সমাজবিরোধীদের গতিবিধির তথ্য সংবলিত ‘রাফ রেজিস্টার’ বা খতিয়ান প্রতিটি ডিভিশনাল ডিসি-র কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কার বিরুদ্ধে কী কী অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং কে বর্তমানে কোথায় রয়েছে, তার ওপর কড়া নজরদারি চালানো সম্ভব হবে।
বিশেষ প্রশিক্ষণ ও রুটমার্চ নির্বাচনের ডিউটির জন্য কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে বাহিনীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা প্রশমিত করা—সব বিষয়েই তালিম দেওয়া হচ্ছে ব্যাটালিয়ন বাহিনীকে। এদিকে, আমজনতার মনে ভরসা জাগাতে এবং দুষ্কৃতীদের কড়া বার্তা দিতে শহরের প্রতিটি কোণায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাথে চলছে পুলিশি রুটমার্চ।
অমিমাংসিত রহস্য ও চ্যালেঞ্জ পুলিশের এই চরম তৎপরতার মাঝেই অস্বস্তি বাড়াচ্ছে রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় বোমাবাজি ও গুলি চালানোর ঘটনার মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু। এখনো তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, উল্টে অভিযুক্ত সমাজমাধ্যমে সক্রিয় বলে খবর। তবে লালবাজারের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এবারের প্রস্তুতি অনেক বেশি সুসংগঠিত এবং শহরবাসীকে নিরাপদ নির্বাচন উপহার দিতে তাঁরা বদ্ধপরিকর।