“অহংকারের পতন!”-ভারতকে অপমান করা প্রোটিয়া কোচকে ‘পিষে’ দিল কিউয়িরা, ইডেনে চরম অপমানের বদলা?

খেলা ঘুরে যায়, ভাগ্যও পাল্টায়। মাত্র কয়েকদিন আগেই এই ইডেন গার্ডেন্সের মাটিতে ভারতীয় দলকে হারিয়ে দম্ভোক্তি করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ শুকরি কনরাড। বুধবার সেই ইডেনেই নিউজিল্যান্ডের কাছে ৯ উইকেটে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল প্রোটিন বাহিনী। সপাটে চড় খেয়ে কার্যত দিশেহারা প্রোটিয়া কোচ স্বীকার করে নিলেন— এই হার কেবল পরাজয় নয়, এটি একটি চরম আঘাত।

অহংকারের ‘বর্ণবিদ্বেষী’ মাশুল? ভারতকে টেস্টে হারানোর পর কনরাড বলেছিলেন, তিনি ভারতীয়দের ‘পায়ের তলায়’ (Grovel) রাখতে চেয়েছিলেন। বর্ণবিদ্বেষের ইঙ্গিতবাহী এই চরম অপমানজনক শব্দ প্রয়োগ করে ক্রিকেট মহলে সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। বুধবার ইডেনে যেন ঠিক সেইভাবেই তাঁর দলকে পিষে দিল ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্টের ব্যাট। কনরাড আক্ষেপ করে বলেন, “চোক করার জন্য অন্তত ম্যাচে থাকতে হয়, আমরা তো ম্যাচেই ছিলাম না। এটা চোক নয়, এটা তার চেয়েও বড় ধাক্কা।”

ইডেনে ফিন অ্যালেনের ধ্বংসলীলা প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে মাত্র ১৬৯ রান তোলে। একমাত্র মার্কো জ্যানসেন (৫৫*) কিউয়ি বোলারদের সামনে কিছুটা লড়াই করেন। তবে রান তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড যা করল, তা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে। ওপেনার ফিন অ্যালেন মাত্র ৩৩ বলে শতরান পূর্ণ করে বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন। সঙ্গী টিম সেইফার্টের ৩৩ বলে ৫৮ রানের ইনিংসে ভর করে মাত্র ১৩ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড।

ফাইনালে কিউয়ি শক্তি পাওয়ার প্লে-তেই ম্যাচের ভবিষ্যৎ লিখে দিয়েছিলেন অ্যালেন ও সেইফার্ট। তাঁদের ১১৭ রানের বিধ্বংসী জুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং লাইনআপকে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দেয়। কিউয়ি স্পিনার রচিন রবীন্দ্র ও ম্যাট হেনরিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ের ফলে আগামী ৮ মার্চ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল কিউয়িরা।