ভারতীয় বন্দর ব্যবহার করে ইরানে হামলা আমেরিকার? তোলপাড় বিশ্ব, মুখ খুলল মোদী সরকার

ভারত মহাসাগরে রক্তক্ষয়ী সংঘাত! বিশাখাপত্তনমে নৌবাহিনীর মহড়া শেষ করে ফেরার পথে মার্কিন হামলার মুখে পড়ল ইরানের রণতরী IRIS Dena। আমেরিকার টর্পেডো হামলায় রণতরীটি মাঝসমুদ্রে ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় অন্তত ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ বহু। আমেরিকা এই হামলার দায় স্বীকার করে নেওয়ার পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তবে কি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ভারতের জলসীমা বা বন্দর ব্যবহার করছে ট্রাম্প প্রশাসন?
বিভ্রান্তিকর দাবি ও ভারতের কড়া জবাব আমেরিকার একটি সংবাদমাধ্যমে (OAN) মার্কিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডগলাস ম্যাকগ্রেগর দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে ভারতের কিছু নৌঘাঁটি ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন। এই দাবি প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ময়দানে নামে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA)।
বিবৃতি দিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে:
-
ভারতের বন্দর বা জলসীমা ব্যবহার করে আমেরিকা হামলা চালাচ্ছে— এই দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর।
-
ভারতের কোনো ভূখণ্ড বা কৌশলগত এলাকা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে না।
-
আন্তর্জাতিক উত্তেজনার আবহে এই ধরণের গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট বুধবার বিশাখাপত্তনমে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি বিশেষ মহড়ায় অংশ নিয়েছিল ইরানি যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena। মহড়া শেষে ফেরার পথেই ভারত মহাসাগরে ওত পেতে থাকা মার্কিন সাবমেরিন বা যুদ্ধজাহাজ থেকে সেটিকে লক্ষ্য করে টর্পেডো ছোড়া হয়। নিমিষেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে সমুদ্রের তলায় তলিয়ে যায় জাহাজটি।
সতর্কবার্তা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুদ্ধের আবহে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে কোনো ধরণের উস্কানিমূলক খবর প্রচার না করার জন্য সংবাদমাধ্যমগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞের মত: ভারত মহাসাগরে এই ধরণের হামলা ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নয়াদিল্লি একদিকে যেমন আমেরিকার কৌশলগত বন্ধু, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গেও ভারতের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন মোদী সরকারের প্রধান লক্ষ্য।