বিহারের রাজনীতিতে মহাপ্রলয়! মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়ছেন নীতীশ? রাজ্যসভায় যাওয়ার জল্পনায় তোলপাড় পাটনা

বিহারের রাজনীতিতে যখনই বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস পাওয়া যায়, তার শুরুটা হয় পোস্টার দিয়ে। ২০২৫-এর সেই ‘নীতীশ সেবক মাঙ্গে নিশান্ত’ পোস্টার যে আসলে কোনো নিছক আবেগ ছিল না, বরং এক সুগভীর রাজনৈতিক চিত্রনাট্যের প্রথমাংশ ছিল, তা ২০২৬-এর এই তপ্ত মার্চে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাটনার অলিতে-গলিতে এখন একটাই প্রশ্ন— নীতীশ কুমার কি তবে বিহারের মায়া ত্যাগ করে দিল্লির পথে পা বাড়াচ্ছেন? বৃহস্পতিবারই বিজেপি সভাপতি নীতীন নবীনের সঙ্গে তাঁর রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর এই একটি পদক্ষেপ বদলে দিতে পারে বিহারের ক্ষমতার ভরকেন্দ্র।
ক্ষমতার হাতবদল ও বিজেপির স্বপ্নপূরণ
যদি নীতীশ কুমার রাজ্যসভায় যান, তবে বিহারে এনডিএ সরকারকে আমূল পুনর্গঠন করতে হবে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নীতীশ দিল্লির মসনদে বা কোনো সাংবিধানিক পদে আসীন হলে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি এবার বিজেপির হাতে আসবে। সেক্ষেত্রে সম্রাট চৌধুরী, দিলীপ জয়সওয়াল বা নিত্যানন্দ রাইয়ের মধ্যে কেউ হতে পারেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৯০ সালে জগন্নাথ মিশ্রর পর গত সাড়ে তিন দশকে বিহার কোনো উচ্চবর্ণের মুখ্যমন্ত্রী দেখেনি। লালু-নীতীশ জমানার ওবিসি-দলিত আধিপত্য ভেঙে কি এবার উচ্চবর্ণের রাজনীতির প্রত্যাবর্তন ঘটবে? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে রাজ্যের আকাশে-বাতাসে।
নিশান্ত কুমার: বাধ্যবাধকতা না কি জেডিইউ-র তুরুপের তাস?
বংশগত রাজনীতির আজীবন বিরোধী নীতীশ কি শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান বদলাচ্ছেন? জেডিইউ-র অন্দরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, নীতীশ রাজনীতি থেকে সরে গেলে দলটিকে হয়তো বিজেপি গ্রাস করবে নয়তো আরজেডি ভেঙে দেবে। এই সংকটকালে দলের কুর্মি-কোয়েরি ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে ‘ঢাল’ হিসেবে নিশান্ত কুমারকে রাজনীতিতে আনার প্রস্তুতি সারা। নীতীশ ভক্তদের দাবি, নেতার সেই সারল্য একমাত্র তাঁর পুত্রের মধ্যেই রয়েছে। নিশান্তের অভিষেক জেডিইউ-র অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে কতখানি অক্সিজেন দেয়, সেটাই দেখার।
চাণক্যের শেষ চাল?
বিহারের ‘চাণক্য’ নীতীশ কুমার কি কৌশলেই ক্ষমতার ব্যাটন বিজেপির হাতে তুলে দিয়ে কেন্দ্রে নিজের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করছেন? বদলে কি তিনি ছেলে নিশান্তের জন্য নিরাপদ রাজনৈতিক জমি আদায় করে নিলেন? ৫ মার্চ মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মিলবে সব উত্তর। হোলির আগে নিশান্ত কুমারের আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে প্রবেশ এবং নীতীশের দিল্লি যাত্রা বিহারের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।