শীতলকুচিতে রথযাত্রার আগেই রক্তক্ষয়ী রণক্ষেত্র কোচবিহার! বিজেপির রথে ভাঙচুরের অভিযোগে তুলকালাম

কোচবিহারে রাজনৈতিক পারদ এখন সপ্তমে। বৃহস্পতিবার শীতলকুচি থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতিন প্রসাদের উপস্থিতিতে বিজেপির রথযাত্রা সূচনার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই বুধবার রাতে কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের মহিষবাথান এলাকায় বিজেপির রথে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুণ্ডিবাড়ি এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূল যুব নেতা সায়নদ্বীপ গোস্বামীর নেতৃত্বে ৭-৮ জন দুষ্কৃতী একটি বোলেরো গাড়িতে এসে এই হামলা চালিয়েছে।
রাতের অন্ধকারে হামলা ও পথ অবরোধ:
বিজেপি সূত্রে খবর, লখনউ থেকে আনা বিশেষ রথটি কোচবিহার জেলা কার্যালয় থেকে পুণ্ডিবাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় মহিষবাথান এলাকায় দুষ্কৃতীদের কবলে পড়ে। রথ ভাঙচুরের প্রতিবাদে রাতেই পুণ্ডিবাড়ি মোড়ে পথ অবরোধ শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। বিধায়ক সুকুমার রায় সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “তৃণমূল কাপুরুষের মতো কাজ করেছে। ক্ষমতা থাকলে খাগড়াবাড়িতে এসে লড়াই করুক।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুণ্ডিবাড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
তৃণমূলের পাল্টা দাবি ও SIR ইস্যু:
তবে বিজেপির তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের দাবি, “এসবই বিজেপির সাজানো নাটক। প্রচারে থাকার জন্য নিজেরাই গাড়ি ভাঙচুর করছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার (SIR ইস্যু) মতো ঘটনায় মানুষের ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক। তৃণমূল কর্মীদের প্ররোচনায় পা না দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
মুখোমুখি সংঘাতের আশঙ্কা:
ভাঙচুর হওয়া রথটি মেরামত করে পুনরায় শীতলকুচি নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। অন্যদিকে, ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি বা SIR ইস্যুতে আজ খাগড়াবাড়ি ও পুণ্ডিবাড়ি চৌপথিতে অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তৃণমূল। একদিকে বিজেপির রথযাত্রা আর অন্যদিকে তৃণমূলের বিক্ষোভ—দুই যুযুধান শিবিরের মুখোমুখি অবস্থানে বড়সড় গোলমালের আশঙ্কা করছেন কোচবিহারের সাধারণ মানুষ। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ।