যুদ্ধ পৌঁছে গেল ভারতের খুব কাছে, ইরানের জাহাজে ভয়াবহ হামলা, বাড়ছে আশঙ্কা?

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবার ঘরের কাছে! শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে এক চাঞ্চল্যকর সামুদ্রিক হামলায় আক্রান্ত হলো ইরানের একটি জাহাজ। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি সাবমেরিন থেকে চালানো টর্পেডো বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ১০১ জন নিখোঁজ এবং ৭৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক খবরে জানা গেছে।
রক্তক্ষয়ী বুধবার ও উদ্ধার অভিযান: বুধবার শ্রীলঙ্কার জলসীমায় থাকাকালীন হঠাৎই জাহাজটি থেকে বিপদসংকেত (SOS) পাঠানো হয়। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে ৩২ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ ১০১ জনের ভাগ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংসদে দাঁড়িয়ে কী বললেন বিদেশমন্ত্রী? শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ দেশের সংসদে এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের কর্মীদের চিকিৎসার জন্য তীরে আনা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজের নাম বা ঠিক কতজন আরোহী ছিলেন, তা নিয়ে এখনই বিস্তারিত খোলসা করতে চায়নি কলম্বো।
আক্রমণের নেপথ্যে কারা? এখনও পর্যন্ত কোনো দেশ বা গোষ্ঠী এই সাবমেরিন হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান আকাশপথে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সামুদ্রিক হামলা নতুন এক ‘প্রক্সি ওয়ার’-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারত মহাসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথে এই হামলা বিশ্বজুড়ে নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
তদন্তে শ্রীলঙ্কা ও ইরান: জাহাজটির সুনির্দিষ্ট পরিচয় এবং সাবমেরিনটি কোন দেশের, তা জানতে আন্তর্জাতিক স্তরে তদন্ত শুরু হয়েছে। তেহরানের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো কড়া বিবৃতি আসেনি, তবে এই ঘটনা যে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
ভারত মহাসাগরের নীল জলরাশি এখন বারুদ আর রক্তে লাল। নিখোঁজদের সন্ধানে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী বড়সড় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।