নিস্তব্ধ ঘরেও কানে কি বাঁশির শব্দ বা ঝিঁঝিঁ ডাক শুনছেন? অবহেলা করলেই চিরতরে হারাতে পারেন শ্রবণশক্তি!

ভিড়ের মধ্যে বন্ধুর কথা বুঝতে পারছেন না? ফোনের ওপাশ থেকে কেউ কথা বললে মনে হচ্ছে যেন জলের তলা থেকে ভেসে আসছে? যদি এমনটা হয়, তবে সময় এসেছে সচেতন হওয়ার। প্রতি বছর ৩রা মার্চ সারা বিশ্বে ‘বিশ্ব শ্রবণ দিবস’ পালন করা হয়। আধুনিক জীবনযাত্রা, হেডফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং শব্দদূষণের কারণে কানে শোনার সমস্যা এখন আর শুধু বার্ধক্যের লক্ষণ নয়, তরুণ প্রজন্মের কাছেও এটি বড় চ্যালেঞ্জ।

যে ১০টি বিপদ সংকেত এড়িয়ে যাবেন না:

  • অস্পষ্ট শব্দ: চারপাশের কথাগুলো যদি আপনার কাছে ঘষা কাঁচের মতো ঝাপসা মনে হয়।

  • ভিড়ের মধ্যে গোলমাল: রেস্তোরাঁ বা উৎসবে নির্দিষ্ট কারও কথা আলাদা করে বুঝতে না পারা।

  • বারবার প্রশ্ন করা: কথা চলাকালীন বারবার ‘কী বললেন?’ বা ‘আর একবার বলুন’ বলার প্রয়োজন হওয়া।

  • টিভির ভলিউম: বাড়ির বাকিদের তুলনায় আপনার যদি টিভির আওয়াজ অনেক বেশি লাগে।

  • সামাজিক দূরত্ব: কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়ায় কি আপনি আড্ডা বা জমায়েত এড়িয়ে চলছেন?

  • কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ (Tinnitus): নিস্তব্ধ ঘরেও একটানা বাঁশির মতো আওয়াজ বা ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা—এটি স্নায়ুর সমস্যার সংকেত।

  • ব্যঞ্জনবর্ণের সমস্যা: ‘স’, ‘ফ’ বা ‘ট’ জাতীয় বর্ণগুলো শুনতে বেশি কসরত করা।

  • মানসিক ক্লান্তি: সারাদিন অন্যের কথা শোনার চেষ্টা করতে গিয়ে দিনশেষে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হওয়া।

  • ভুল বোঝাবুঝি: মনে হওয়া যে সবাই বিড়বিড় করে কথা বলছে, যা থেকে পারিবারিক অশান্তি তৈরি হয়।

  • প্রকৃতির শব্দ হারিয়ে যাওয়া: পাখির ডাক বা ঘড়ির টিকটিক শব্দ যদি বেশ কিছুদিন ধরে না শুনতে পান।

শ্রবণশক্তি একবার কমতে শুরু করলে তা ফিরে পাওয়া কঠিন। তাই এই লক্ষণগুলোর একটিও দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (ENT) পরামর্শ নিন।