ভোটার তালিকায় বড় কারচুপি? ৬০ লক্ষ নাম নিয়ে তোলপাড়, বিপাকে সরকারি আধিকারিকরা!

পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতেই শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বিতর্ক। প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘অমীমাংসিত’ বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায় থাকায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি আঙুল উঠছে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (AERO) দিকে। কেন এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নথি যাচাইয়ের কাজ বাকি পড়ে রইল, তা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর।
কমিশনে গেল রিপোর্ট, শাস্তির মুখে আধিকারিকরা? সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার উদাহরণ বা ‘কেস টু কেস’ স্টাডি তুলে ধরে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়েছে সিইও দফতর। রিপোর্টে উঠে এসেছে মারাত্মক সব গাফিলতির ছবি। উদাহরণস্বরূপ, পূর্ব বর্ধমানের এক ভোটারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যিনি সাত পুরুষ ধরে একই এলাকায় বসবাস করছেন এবং নিয়মিত ভোট দিচ্ছেন। অথচ, শুনানিতে সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা তাঁর ডিজিটাল ডকুমেন্টস পোর্টালে আপলোড করেননি। ফলে তাঁর নামটিও এখন অমীমাংসিত তালিকায়। এই ধরণের চরম অপেশাদারিত্বের জন্য ইআরও এবং এইআরও-দের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: ভোটার তালিকা নিয়ে সরব হয়েছে সব পক্ষই। কংগ্রেস নেত্রী মৌসম নুর অভিযোগ করেছেন, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা সজল ঘোষ সরাসরি রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর দাবি, “এই ইআরও এবং এইআরও-রাই যত নষ্টের মূল। রাজ্য সরকারের নির্দেশেই বৈধ ভোটারদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে তোলা যায়।”
এখন দেখার, এই রিপোর্টের ভিত্তিতে দিল্লির নির্বাচন কমিশন অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।