“টাকা ফেরত দেব না, দোলে ফূর্তি করব”, এই জেদেই মর্মান্তিক পরিণতি! নদিয়ায় আত্মীয়ের হাতেই বলি স্বামী

উৎসবের আবহে রক্ত ঝরল নদিয়ার হরিণঘাটায়। মাত্র ১০০ টাকার বিবাদকে কেন্দ্র করে নিজের আত্মীয়ের হাতেই প্রাণ হারাতে হলো এক যুবককে। মদের আসরে শুরু হওয়া সামান্য বচসা যে শেষ পর্যন্ত খুনের রূপ নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি হরিণঘাটা থানার নগরউখড়া মহাদেবপুর তালতলা পাড়ার বাসিন্দারা। মৃত যুবকের নাম সঞ্জীব দেবনাথ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত আত্মীয় অসিত দেবনাথকে ইতিমধ্য়েই আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে বাড়ির কাছেই একটি নার্সারির বাগানে মদের আসর বসেছিল। সঞ্জীবের স্ত্রী শুক্লা দেবনাথের দাবি, অভিযুক্ত অসিত (সম্পর্কে শুক্লার ননদের দেওর) সঞ্জীবকে মদ খাওয়ার প্রস্তাব দেয়। সেই মতো সঞ্জীব তাকে ১০০ টাকা দিলেও পরে অসিত মদ খেতে অস্বীকার করে। সঞ্জীব নিজের টাকা ফেরত চাইলে অসিত সাফ জানিয়ে দেয়, “টাকা ফেরত দেব না, এই টাকায় দোলে ফূর্তি করব।” এই নিয়েই দুই আত্মীয়র মধ্যে প্রবল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বচসা চলাকালীন আচমকাই একটি বেলচা নিয়ে সঞ্জীবের মাথায় সজোরে আঘাত করে অসিত।
রক্তাক্ত অবস্থায় সঞ্জীবকে উদ্ধার করে হরিণঘাটা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কয়েকদিন আগেই ভিনরাজ্যের কাজ থেকে গ্রামে ফিরেছিলেন সঞ্জীব। খুনের খবর চাউর হতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শুক্লা দেবী। তিনি অভিযোগ করেন, “পিছন থেকে বেলচা দিয়ে মাথায় মেরে আমার স্বামীকে শেষ করে দিল ও।”
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মহাদেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির বিশাল বাহিনী। অভিযুক্ত অসিতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শুধুমাত্র ১০০ টাকার জেদেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড, নাকি এর পেছনে পুরনো কোনও শত্রুতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে হরিণঘাটা থানার পুলিশ। দোলের আগে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম।