যুদ্ধের আতঙ্কে বিদেশের মাটিতে ‘বন্দি’ সন্দীপ্তা! দেশে ফেরার পথ বন্ধ, কীভাবে কাটল দোল?

বসন্তের দখিনা বাতাস আর আবিরের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে তিলোত্তমা। ২০২৬ সালের দোল উৎসব টলিপাড়ার তারকাদের জন্য ছিল এক মিশ্র অনুভূতির সমাহার। কারোর জন্য এই উৎসব ছিল প্রেমে ভরা, কারোর জন্য ছিল বিচ্ছেদের বেদনা (দেশের থেকে দূরে থাকার), আবার কেউ মাতলেন ঘরোয়া আড্ডায়। তবে সবকিছুর মাঝে এবার টলিপাড়ার দোলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেন।
ইউরোপ ভ্রমণে গিয়ে এক প্রকার ‘বন্দি’ দশায় দিন কাটছে সন্দীপ্তা সেন ও তাঁর স্বামী সৌম্য মুখোপাধ্যায়ের। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তাঁরা বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে চলা প্রবল অস্থিরতায় আকাশপথ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ১ মার্চ প্যারিসে পৌঁছালেও আপাতত সেখান থেকে বেরোনোর পথ পাচ্ছেন না এই দম্পতি। ৫ মার্চের আগে তাঁদের দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে বিপদে পড়েও দমে যাননি সন্দীপ্তা। হোটেলের চার দেওয়ালে বসেই ডিজিটাল কায়দায় মেতেছেন রঙের উৎসবে। পুরনো ছবি এডিট করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতি যাই হোক, মনের রঙ কখনো ম্লান হয় না।
অন্যদিকে, শহর কলকাতার বুকে দোলের রং সবথেকে বেশি উজ্জ্বল হয়ে ধরা দিয়েছিল নবদম্পতি রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলির জীবনে। বিয়ের পর এটিই ছিল তাঁদের জীবনের প্রথম দোল। লাল পোশাকে সেজে শ্যামৌপ্তি যখন রণজয়কে আদরে আবির মাখিয়ে দিচ্ছিলেন, সেই মুহূর্ত দেখে মুগ্ধ নেটপাড়া। পিছিয়ে ছিলেন না টলিপাড়ার ‘পাওয়ার কাপল’ যশ দাশগুপ্ত ও নুসরত জাহানও। প্রতি বছরের মতো এবারও তাঁরা একে অপরকে রঙে মাখিয়ে প্রায় ‘ভূত’ করে ছেড়েছেন। তাঁদের সেই খুনসুটির ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল।
রঙের এই মিছিলে সামিল হয়েছিলেন অঙ্গনা রায় ও রোহন ভট্টাচার্যও। দুজনে মিলে জমিয়ে রং খেলেছেন। অভিনেত্রী চৈতি ঘোষালের কাছে এবারের দোল ছিল অত্যন্ত আবেগের। দীর্ঘ চার বছর পর ছেলে অমর্ত্যকে কাছে পেয়ে ঘরোয়া আড্ডায় মেতেছিলেন তিনি। অভিনেতা গৌরব চক্রবর্তী ও ঋদ্ধিমা ঘোষের কাছে এবারের রঙের উৎসবের মধ্যমণি ছিল তাঁদের সন্তান ‘ধীর’। আদ্যোপান্ত ফ্যামিলি ম্যান হিসেবেই ধরা দিয়েছেন গৌরব।
তবে শুধু হুল্লোড় নয়, উৎসবের আবহেও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন টলি-তারকারা। রুকমা রায় থেকে জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়— প্রত্যেকেই ভক্তদের কাছে সবিনয় আবেদন জানিয়েছেন, যেন আনন্দের বশে রাস্তার কোনো অবলা প্রাণীর গায়ে রং লাগানো না হয়। সব মিলিয়ে ২০২৬-এর দোল টলিপাড়ার জন্য ছিল এক বর্ণিল ক্যানভাস।