সিঁথিতে সিঁদুর কিন্তু সঙ্গী কেবল একাকীত্ব! অমিতাভের জন্য কি আজও ‘ঘর ভাঙানি’ অপবাদ বইছেন রেখা?

পর্দার সামনে তাঁর মোহময়ী হাসি আর চোখের জাদুতে আজও ঘায়েল কোটি কোটি হৃদয়। কিন্তু ৭১ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে থাকা ভানুরেখা গণেশন, যাঁকে বিশ্ব চেনে ‘রেখা’ নামে, তাঁর জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে কেবলই উপেক্ষা, দহন আর একাকীত্ব। সম্প্রতি সিমি গারেওয়ালের জনপ্রিয় টক-শোতে নিজের জীবনের এমনই কিছু বিস্ফোরক ও অন্ধকার সত্য উন্মোচন করেছেন এই বলিউড ডিভা।

জন্ম থেকেই উপেক্ষা: ১৯৫৪ সালের ১০ অক্টোবর এক মাদ্রাজ পরিবারে জন্ম রেখার। দক্ষিণি সুপারস্টার জেমিনি গণেশন এবং জুনিয়র শিল্পী পুষ্পবল্লীর সম্পর্কের সন্তান ছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় জেমিনি গণেশন রেখাকে জনসমক্ষে নিজের সন্তানের স্বীকৃতি দেননি। বাবার স্নেহের বদলে একরাশ গ্লানি আর পরিচয়হীনতার যন্ত্রণা নিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা।

মাদক, মদ্যপান ও লালসার নরক: নিজের জীবনের সবথেকে কঠিন সময় নিয়ে অভাবনীয় সততার পরিচয় দিয়েছেন রেখা। সিমি গারেওয়ালের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি স্বীকার করেন নিজের নেশার কথা। রেখা বলেন, “অবশ্যই আমি প্রচুর মদ্যপান করেছি। এমনকি ড্রাগসও নিয়েছি। আমি অত্যন্ত কলুষিত হয়ে পড়েছিলাম এবং লালসার নরকে ডুবে ছিলাম। কিন্তু কেউ কি কোনোদিন আমায় জিজ্ঞেস করেছে আমি কেন এসব করছি? জীবন থেকে আমি কী পেয়েছি আর কী পাইনি?” তাঁর এই স্বীকারোক্তি বর্তমানে নেটপাড়ায় রীতিমতো ঝড়ের সৃষ্টি করেছে।

অমিতাভ অধ্যায় ও একাকীত্ব: রেখার জীবনের সবথেকে আলোচিত অধ্যায়টি শুরু হয় আশির দশকে, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে। ‘দো আনজানে’ ছবির সেটে প্রথম দেখা, তারপর ‘সিলসিলা’—যেখানে পর্দার প্রেম বাস্তবেও চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। বিবাহিত পুরুষের প্রেমে পড়া নিয়ে রেখা অত্যন্ত সংযত কিন্তু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি তাঁকে (অমিতাভ) মন থেকে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি কখনোই কারোর ঘর ভেঙে সুখী হতে পারব না। তাই আমি নিজের অধিকার কখনও দাবি করিনি, শুধু দূর থেকে তাঁর মঙ্গল কামনা করেছি।” ১৯৯০ সালে ব্যবসায়ী মুকেশ আগরওয়ালের সঙ্গে বিয়ে হলেও কয়েক মাসের মাথায় মুকেশ আত্মহত্যা করেন। তারপর থেকে একাকীত্বই হয়ে ওঠে রেখার নিত্যসঙ্গী। আজও সিঁথিতে সিঁদুর আর পরনে কাঞ্জিভরম শাড়িতে রেখা যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান, কেউ বুঝতেই পারে না এই গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে আছে কতটা দহন।