দশ দিনের বেশি যুদ্ধ চললেই ফুরোবে মিসাইল! ইরানের বিরুদ্ধে ‘অফুরন্ত’ অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঙ্কার দিলেও, অন্দরের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। পেন্টাগনের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে এই সংঘাত যদি ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডারে টান পড়তে পারে। বিশেষ করে কিছু অত্যাধুনিক মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রের ভাঁড়ার তলানিতে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সামরিক আধিকারিকরা।
সংকটে কোন কোন অস্ত্র? মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর দাবি অনুযায়ী, পেন্টাগন ইতিমধ্যেই হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ক্রমাগত সহায়তার ফলে ‘প্যাট্রিয়ট’ (Patriot) মিসাইলের ঘাটতি আগে থেকেই ছিল। এবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ‘টমাহক’ (Tomahawk) এবং ‘SM-3’ ইন্টারসেপ্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের জোগান কমে আসছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অভিযানে আমেরিকা ইতিমধ্যেই প্রায় ২,০০০ বার হামলা চালিয়েছে বলে দাবি।
ট্রাম্পের পাল্টা রণকৌশল: অস্ত্রের এই ঘাটতি মেটাতে আগামী শুক্রবার হোয়াইট হাউসে বড়সড় বৈঠকে বসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের শীর্ষস্থানীয় অস্ত্র উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির কর্তাদের তলব করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই— যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো।
অন্যদিকে, আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানও দমে যায়নি। সৌদি আরব, কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে তেহরান। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডার ‘অফুরন্ত’ এবং ইরানকে পঙ্গু করে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের আছে। কিন্তু সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে সামরিক সরঞ্জামের জোগান বজায় রাখা আমেরিকার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।