ভারতের ব্রহ্মাস্ত্র ‘শেষনাগ’! ১০০০ কিমি রেঞ্জ আর ৪০ কেজি বিস্ফোরক নিয়ে ধেয়ে আসবে দেশীয় আত্মঘাতী ড্রোন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ হোক বা ইরান-ইজরায়েল সংঘাত— আধুনিক রণক্ষেত্রে ‘সুইসাইড ড্রোন’ বা আত্মঘাতী ড্রোনের কার্যকারিতা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। এই দৌড়ে এবার বিশ্বমঞ্চে কড়া টক্কর দিতে প্রস্তুত ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ‘শেষনাগ-১৫০’ (Sheshnaag-150)। বেঙ্গালুরুর স্টার্টআপ ‘নিউস্পেস রিসার্চ টেকনোলজিস’ (NTR) এই ড্রোনটি তৈরি করছে, যা ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের নজরে এসেছে।

কেন এই শেষনাগ ঘাতক? ইরানের বিখ্যাত ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের আদলে তৈরি এই শেষনাগ ড্রোনটি আসলে একটি লয়টারিং মিউনিশন (Loitering Munition)। এটি আকারে ছোট হলেও এর ধ্বংসক্ষমতা অপরিসীম। ড্রোনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • পাল্লা (Range): এটি প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত গিয়ে আক্রমণ করতে পারে।

  • উড্ডয়ন ক্ষমতা: একটানা ৫ ঘণ্টা আকাশে উড়তে সক্ষম এই ড্রোন।

  • বিস্ফোরক বহন: প্রায় ৪০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বা বিস্ফোরক নিয়ে এটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

  • স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি: কোনও চালকের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এটি নিজে থেকে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা, ট্র্যাক করা এবং নিখুঁতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে সক্ষম।

রণকৌশলে গুরুত্ব: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় থেকেই ভারতীয় সেনা এই ধরনের দেশীয় ড্রোনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল। শেষনাগের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর ‘ঝাঁকে ঝাঁকে’ (Swarm) আক্রমণ করার ক্ষমতা। একসাথে কয়েক ডজন ড্রোন উড়ে গেলে যে কোনও আধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে তা মুহূর্তের মধ্যে ধুলিসাৎ করে দিতে পারে। শাহেদ বা আমেরিকার লুকাস ড্রোনের মতোই শেষনাগ-১৫০ কম খরচে শত্রুপক্ষের কোটি কোটি টাকার যুদ্ধবিমান বা ট্যাঙ্ক ধ্বংস করতে সক্ষম। ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন এই আকাশ-নাগের আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।