সারা দেশ যখন রঙে রঙিন, বর্ধমান তখন অপেক্ষায়! ৩০০ বছরের প্রাচীন প্রথা মেনে কেন একদিন পরে দোল?

মার্চ মাসের এই তপ্ত দুপুরে যখন গোটা দেশ হোলি বা দোল উৎসবের রঙে মাতোয়ারা, তখন বর্ধমান শহর যেন এক শান্ত উৎসবের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। ভারতের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে বর্ধমানের দোলের সময় মেলে না। এখানে দোল উৎসব পালিত হয় ক্যালেন্ডারের নির্ঘণ্টের ঠিক একদিন পরে। কেন এই ব্যতিক্রমী নিয়ম? এর উত্তর লুকিয়ে আছে বর্ধমান রাজবাড়ির ৩০০ বছরের পুরনো ইতিহাসে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৮৩০ সালে বর্ধমানের মহারাজা ছিলেন মহাতাবচাঁদ। রাজবাড়ির কুলদেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ-এর মন্দির প্রতিষ্ঠিত বড়বাজার এলাকায়। নিয়ম অনুযায়ী, দোলের মূল তিথিতে রাজপরিবার ও প্রজারা সারাদিন ধরে মন্দিরে দেবতাদের চরণে আবির নিবেদন করতেন। রাজবাড়িতে চলত নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেহেতু ওই দিনটি শুধুমাত্র দেবতাদের চরণে আবির দেওয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল, তাই শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে শহরের মানুষ ওই দিন নিজেদের মধ্যে রং খেলতেন না। তাঁরা অপেক্ষা করতেন পরের দিনের জন্য।
বর্তমান পরিস্থিতি: রাজা নেই, রাজত্বও নেই, কিন্তু ঐতিহ্য আজও অটুট। রাজ পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে আজও বর্ধমানবাসী একদিন পরে দোল উৎসবে মাতেন। কার্জনগেট, টাউনহল ময়দান থেকে রাজনন্দিনী মাঠ— সর্বত্রই চলে রঙের খেলা। স্টেশন বাজার থেকে চৌধুরী বাজার, রঙিন আবির আর হরেক রকমের পিচকিরিতে সেজে উঠেছে দোকানগুলি। ছোটদের জন্য ছোটা ভীম বা স্পাইডারম্যানের মুখোশের চাহিদা তুঙ্গে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ ড. সর্বজিৎ যশের মতে, এই একদিন পিছিয়ে দোল পালন বর্ধমানের এক অনন্য সাংস্কৃতিক পরিচয় যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।